টিলা ধসে চাপা পড়া শ্রমিককে উদ্ধার করলেন এক যুবক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৮ বার
টিলা ধসে চাপা পড়া শ্রমিককে উদ্ধার করলেন এক যুবক

প্রকাশ: ২৮শে জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক যুবকের সাহসিকতায় প্রাণ বেঁচে গেছে এক শ্রমিকের। টানা ভারী বৃষ্টির পর উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের পাতিলাসাঙ্গন এলাকায় একটি টিলা থেকে ধসে পড়া মাটি সরাচ্ছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় হঠাৎ আবারও টিলা ধসে পড়ে। মুহূর্তেই এক শ্রমিক কোমর পর্যন্ত মাটিতে চাপা পড়েন। অন্য শ্রমিকেরা ভয়ে পালিয়ে গেলে আতঙ্কের মধ্যে আটকে পড়া শ্রমিকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়।

এ দৃশ্য দেখে ছুটে আসেন প্রতিবেশী যুবক সিদ্দিকুর রহমান। চারপাশের মানুষ যখন নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন তিনি কোদাল হাতে নিয়ে বৃষ্টির ভেতরেই উদ্ধার কাজে নামেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সিদ্দিকুর ধীরে ধীরে চাপা পড়া শ্রমিকের চারপাশের মাটি সরিয়ে দেন। পরে হাত ধরে টেনে তুলতে সক্ষম হন শ্রমিকটিকে। তাৎক্ষণিক এই উদ্যোগেই শ্রমিকের প্রাণ বাঁচে। আহত শ্রমিককে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার দুপুরে, এবং এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসার ঝড় ওঠে। যদিও শ্রমিকটির নাম-পরিচয় জানা যায়নি, স্থানীয়রা জানিয়েছেন তিনি পাশের ধামাই চা-বাগানের বাসিন্দা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রিনা বেগম নামে এক নারী কিছুদিন আগে এলাকাটির টিলাভূমি কেনেন এবং ঘর নির্মাণ করেন। টিলার উচ্চতা প্রায় ২৫-৩০ ফুট। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে টিলার পেছন দিক থেকে মাটি ধসে পড়ে। সেই ধস পরিষ্কারের জন্য চারজন শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়। দুপুরে আবারও মাটি ধসে পড়লে একজন শ্রমিক চাপা পড়েন।

ঘটনার নায়ক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “মানুষটা কোমরসমান মাটিতে আটকে ছিলেন। উঠতে পারছিলেন না। কেউ তাকে উদ্ধারের সাহস পাচ্ছিল না। তখন মনে হলো, মানুষটাকে বাঁচানোই সবচেয়ে জরুরি। বৃষ্টিতে ভিজে কোদাল নিয়ে ছুটে গেলাম। ধীরে ধীরে মাটি সরিয়ে অবশেষে তাকে টেনে তুলেছি।”

সাগরনাল ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য শরফ উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে ভিডিওটি দেখার পর তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি মন্তব্য করেন, সিদ্দিকুর যে মানবিক কাজ করেছেন তা প্রশংসার যোগ্য। তিনি যদি দ্রুত এগিয়ে না আসতেন, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।

একজন মানুষের সাহস আর মানবিকতার কারণে এ ঘটনার সমাপ্তি ঘটেছে ইতিবাচক পরিণতিতে। ঘটনাটি এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিদ্দিকুরের এই বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রশংসা চলছে অব্যাহতভাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত