সর্বশেষ :
প্রথম বছরেই চমক: ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার বিপুল মুনাফা শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো: বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সতর্কতা ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নিয়ে দুদুর বিস্ফোরক ভাষ্য ডায়াবেটিস নেই তবুও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি? যুক্তরাজ্যে মিলল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল কপি পেঁয়াজ উৎপাদনে রেকর্ড, তবুও কেন আমদানির চাপে কৃষক? সিলেটের সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার ৮৮ বছর পর নকআউটে জয়: ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিমান অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা: সাংবাদিক দেখেই দৌড় চিকিৎসকের

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে নতুন কমিশনের প্রতিশ্রুতির সুর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার
পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে নতুন কমিশনের প্রতিশ্রুতির সুর

প্রকাশ: ৩ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ও উন্নয়নের নির্দেশক হিসেবে পরিচিত দেশের পুঁজিবাজার। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এবং বিভিন্ন কাঠামোগত দুর্বলতায় ধুঁকছে এই বাজার। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বাজারকে একটি স্থিতিশীল ও গতিশীল অবস্থানে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব। গত বৃহস্পতিবার ডিএসই টাওয়ারে ডিবিএ আয়োজিত এক পরিচিতি সভায় উপস্থিত হয়ে বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান বাজারের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দ্রুত সমাধানের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তার এই আশ্বাস পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও স্টেকহোল্ডারদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

পরিচিতি সভায় বিএসইসির নতুন কমিশনের সদস্যরা ছাড়াও পুঁজিবাজারের বিভিন্ন স্তরের অংশীজন, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর প্রতিনিধি এবং বাজার বিশ্লেষকরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতেই ব্রোকারেজ হাউসগুলোর পক্ষ থেকে বাজারের বর্তমান দুরবস্থা, বিনিয়োগের পথে থাকা বিভিন্ন নীতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বাজারের স্বচ্ছতার অভাব এবং কারসাজির কারণে তাদের মূলধন হারানোর ঝুঁকি, যা মূলত আস্থার সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। প্রতিনিধিরা কমিশনের নতুন নেতৃত্বের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, অতীতের ভুলগুলো সংশোধন করে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হবে যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নির্ভয়ে পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারেন।

বিনিয়োগকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান অত্যন্ত ধৈর্য ও মনোযোগের সাথে সব কথা শোনেন এবং তার প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, বাজারের জমে থাকা জঞ্জাল পরিষ্কার করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই নতুন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, বাজারের সমস্যাগুলো কোনো জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় এক রাতে সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে একটি কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী সমাধানের দিকে তারা এগোচ্ছেন। তার মতে, বাজারে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবেই। তিনি অংশীজনদের আশ্বস্ত করেন যে, কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ হবে বাজারবান্ধব এবং সব পক্ষের সাথে সমন্বয় করেই নীতিমালা গ্রহণ করা হবে, যাতে বাজারে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বজায় থাকে।

পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধসের পেছনে বড় একটি কারণ হলো সঠিক তথ্যের অভাব এবং বাজার কারসাজির ভয়। চেয়ারম্যান মাসুদ খান এই বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন বলেই তার বক্তব্যে স্বচ্ছতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে বাজারের অনিয়ম রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের কারসাজি বা নীতিবহির্ভূত সুবিধা গ্রহণের সুযোগ যেন আর না থাকে, তা নিশ্চিত করতে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জকে কিছু ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেওয়ার ঘোষণাও বিনিয়োগকারীদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা অনেকের কাছেই তাদের সারা জীবনের সঞ্চয়। বাজারের অস্থিরতায় যখন শেয়ারের দরপতন ঘটে, তখন শুধু পুঁজিই নষ্ট হয় না, বরং সাধারণ মানুষের স্বপ্নও ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। নতুন চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে যখন বলা হয় যে, কমিশনের প্রধান অগ্রাধিকারই হলো বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা, তখন তা অনেকের কাছেই আশার বাণী হিসেবে বিবেচিত হয়। বাজারের এই সংকটময় মুহূর্তে কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিটি আশ্বাস এবং নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ যেন প্রকৃত অর্থেই কার্যকর হয়, তা দেখতে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কোটি বিনিয়োগকারী।

পুঁজিবাজারকে একটি আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই যেভাবে অংশীজনদের সাথে আলোচনার টেবিলে বসে তাদের সমস্যা ও মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শুধু নীতিমালার পরিবর্তন বা সংস্কার দিয়েই বাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব নয়, যদি না তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। মাসুদ খান তার বক্তব্যে এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে, নিয়ম শুধু খাতায় কলমে থাকবে না, বরং তা বাজারের প্রতিটি স্তরে প্রয়োগ করা হবে।

সবশেষে বলা যায়, পুঁজিবাজারকে ঘিরে যে আস্থার সংকট দীর্ঘসময় ধরে দানা বেঁধেছে, তা রাতারাতি দূর না হলেও বর্তমান কমিশনের নেওয়া এই উদ্যোগগুলো একটি সঠিক পথের সূচনা। বাজারের অংশীজন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বিনিয়োগকারী—এই তিনের সমন্বিত ও স্বচ্ছ অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব। চেয়ারম্যান মাসুদ খানের নেতৃত্বে বিএসইসি যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে পারে, তবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অদূর ভবিষ্যতে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে। বিনিয়োগকারীরা এখন কেবলই একটি স্থিতিশীল বাজারের অপেক্ষায়, যেখানে তারা নির্ভয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত