সর্বশেষ :
প্রথম বছরেই চমক: ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার বিপুল মুনাফা শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো: বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সতর্কতা ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নিয়ে দুদুর বিস্ফোরক ভাষ্য ডায়াবেটিস নেই তবুও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি? যুক্তরাজ্যে মিলল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল কপি পেঁয়াজ উৎপাদনে রেকর্ড, তবুও কেন আমদানির চাপে কৃষক? সিলেটের সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার ৮৮ বছর পর নকআউটে জয়: ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিমান অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা: সাংবাদিক দেখেই দৌড় চিকিৎসকের

৪০ কোটি টাকায় ডমিনেজ স্টিল কিনছে আকিজ রিসোর্সেস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার
৪০ কোটি টাকায় ডমিনেজ স্টিল কিনছে আকিজ রিসোর্সেস

প্রকাশ:  ০৩ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের শিল্প খাতের অন্যতম বৃহৎ নাম আকিজ রিসোর্সেস এবার তাদের ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে যাচ্ছে একটি সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের লোকসানি প্রতিষ্ঠান ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমসের মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আকিজ রিসোর্সেস কর্তৃপক্ষ ডমিনেজ স্টিলের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে থাকা মোট শেয়ারের ৩০ শতাংশ কিনে নিতে সম্মত হয়েছে। এই বিশাল মালিকানা হস্তান্তরের জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করছে আকিজ রিসোর্সেস। বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারানো এবং ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মুখে থাকা এই কোম্পানিটিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়েই এই বিশাল অঙ্কের মূলধন বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের পুঁজিবাজার ও শিল্প মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শেয়ার হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই বিক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ডমিনেজ স্টিলের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে থাকা ৩ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার শেখ জসিমউদ্দিন ও ফারিয়া হোসেনের মালিকানাধীন আকিজ রিসোর্সেসের কাছে হস্তান্তর করা হবে। শেয়ারবাজারের বাইরে পরিচালিত এই লেনদেনে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ টাকা। এই ১৩ টাকার মধ্যে ১০ টাকা হলো শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু এবং ৩ টাকা প্রিমিয়াম হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

মালিকানা বদলের এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশের পুঁজিবাজারে এক অস্বাভাবিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। গত ছয় মাসে লোকসানি এই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ১৮২ শতাংশ বা ৫২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি যে শেয়ারের মূল্য ছিল মাত্র ২৮ টাকা ৪০ পয়সা, তা এখন ৮০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অথচ কোম্পানিটি সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী লোকসানের বৃত্তে বন্দি রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে ডমিনেজ স্টিল প্রায় ৭২ লাখ টাকা লোকসান গুনেছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মালিকানা পরিবর্তনের আগাম তথ্য জেনে পুঁজিবাজারের এক প্রভাবশালী পক্ষ শেয়ারের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে দাম বাড়িয়েছিল, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোম্পানিটির বর্তমান সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ডমিনেজ স্টিলের দুটি কারখানার মধ্যে সাভারের কারখানাটি কোনোমতে সচল থাকলেও নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত কারখানাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বি-শ্রেণিভুক্ত একটি কোম্পানি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তারা মাত্র শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছিল। সম্পদ মূল্যের ভিত্তিতে কোম্পানিটি এখনো ১৭৪ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেও, উৎপাদন সক্ষমতার অভাব এবং অব্যবস্থাপনার কারণে কোম্পানিটি গত কয়েক বছর ধরে সাফল্যের মুখ দেখতে পারছে না।

আকিজ রিসোর্সেসের ডেপুটি সিএফও রায়হান কবির জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই আকিজ রিসোর্সেস কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে। তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সাভার ও নরসিংদীর কারখানা দুটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনা। আকিজ রিসোর্সেস মনে করে, সঠিক নেতৃত্ব এবং পুঁজির যথাযথ বিনিয়োগের মাধ্যমে ডমিনেজ স্টিলকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব। পর্যায়ক্রমে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তারা এই খাত থেকে আরও বেশি রাজস্ব আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।

ডমিনেজ স্টিলের এই মালিকানা পরিবর্তন কেবল দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক চুক্তি নয়, বরং এটি একটি মৃতপ্রায় শিল্প ইউনিটকে বাঁচিয়ে তোলার প্রচেষ্টাও বটে। দেশের শিল্প খাতে আকিজ রিসোর্সেসের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জিং ব্যবসায়িক ইউনিটকে সফল করার সামর্থ্য রাখে। তবে শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন তাকিয়ে আছেন বিএসইসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। মালিকানা বদলের পর ডমিনেজ স্টিলের ব্যবসায়িক গতিপথ কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই তার হারানো গৌরব ফিরে পায় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

পরিশেষে, আকিজ রিসোর্সেসের এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য নতুন আশার বার্তা বয়ে আনতে পারে। যদি কারখানাগুলোর উৎপাদন পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়, তবে তা কেবল কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফাই বাড়াবে না, বরং দেশের নির্মাণ খাতের কাঁচামাল সরবরাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি এই লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে এবং কোনো ধরনের কারসাজি রোধে তৎপর থাকে, তবেই ডমিনেজ স্টিলের এই মালিকানা বদল দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। শিল্প মালিকদের এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের মানসিকতাকে উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারে আস্থার জায়গাটি আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত