সর্বশেষ :
ইসরাইলের অকৃত্রিম মিত্র ভারত, ভ্যান্সের মন্তব্যে দ্বিমত নেতানিয়াহুর পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি শুরু: উত্তপ্ত বিচারিক অঙ্গন সৌরবিদ্যুতে গুরুত্ব, জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার ডিসেম্বরেই নতুন বই, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুটিংহীন অবসরে যেভাবে নিজেকে সজীব রাখেন অভিনেত্রী হিমি আমানত আনতে ৪ কোটি টাকার ঘুষ: ডুবছে কমার্স ব্যাংক ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত ভারত: ১০ জনের মৃত্যু, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রেমিকার ঘরে স্ত্রীকে খুন, নেপাল পালানো স্বামী গ্রেফতার পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল ব্রাজিলকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস লিখলেন আর্লিং হলান্ড

ক্লিনিকে ডেলিভারি রুম বাধ্যতামূলক, লাইসেন্স বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ বার
ক্লিনিকে ডেলিভারি রুম বাধ্যতামূলক, লাইসেন্স বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৬  জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে দীর্ঘদিনের বিরাজমান বিশৃঙ্খলা নিরসনে এবং প্রসূতি সেবার মানোন্নয়নে সরকার এবার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, চলতি জুলাই মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক সক্রিয় ডেলিভারি রুম বা প্রসূতি সেবা কক্ষ স্থাপন করতে হবে। এই নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটলে কোনো ধরনের অনুকম্পা না দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাণিজ্যিকীকরণের ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সাধারণ পণ্য নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। মুনাফা অর্জনের চেয়ে জীবনের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ক্লিনিক মালিকদের নৈতিক দায়িত্ব। ডেলিভারি রুমের অভাবে গর্ভবতী মায়েরা যে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি প্রসূতি মায়ের জন্য নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা। প্রতিটি ক্লিনিককে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফারি কর্মী নিয়োগ দিয়ে ডেলিভারি রুমগুলো সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আর কোনো মায়ের জীবন বাচ্চার জন্মের সময় অবহেলায় হারাতে চাই না। সরকার এখন থেকে প্রতিটি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালাবে।

বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারের নেওয়া বহুমুখী কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী সাত দিনের মধ্যে লার্ভা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট সব এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং রোগী ও স্বজনদের সুবিধার জন্য মোবাইল সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্বে স্যালাইন সরবরাহে যে ঘাটতি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বর্তমানে পাইপ লাইনে প্রচুর পরিমাণে স্যালাইন সরবরাহ আসছে, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।

চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা যাবে না। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের জ্বর কমে এলেও তাদের শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হওয়া পর্যন্ত বাসায় পাঠানো যাবে না। চিকিৎসকদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে রোগী শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পথে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের প্লাজমা লিকেজের মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে কঠোর নজরদারির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিগত বছরের তুলনায় বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হামের ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকাদানের হার শতভাগ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যখাতের জনবল সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজারই হবেন নারী। এই বিশাল নারী কর্মীদের একটি বড় অংশকে ধাত্রীবিদ্যা বা মিডওয়াইফারিতে প্রশিক্ষিত করে তোলা হবে, যাতে প্রতিটি গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ প্রসব ও প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। নারীরা যখন স্বাস্থ্যসেবার মূল স্তম্ভ হয়ে উঠবেন, তখন দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি অনেক সহজ হবে।

স্বাস্থ্য সেবাকে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজধানী বা বড় শহরে সীমাবদ্ধ না থেকে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে সরকারের নীতিমালার সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে আমরা এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলতে চাই যেখানে একজন গ্রামবাসী তার দোরগোড়াতেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ এবং জরুরি প্রসূতি সেবা পান। এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেবল শক্তিশালী হবে না, বরং তা হবে আধুনিক ও জনবান্ধব। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে একটি উজ্জ্বল ও নির্ভরযোগ্য অবস্থানে নিয়ে যেতে।

পরিশেষে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্লিনিক মালিক এবং চিকিৎসক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান যে, মানুষের জীবন বাঁচানোর ব্রত নিয়ে তাঁরা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। সরকারের এই কঠোর নির্দেশনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, বরং রয়েছে কেবল সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার অদম্য ইচ্ছা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জুলাই মাসের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সকল ক্লিনিক ডেলিভারি রুম স্থাপনের নির্দেশ মেনে চলবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এই নিয়মের বাইরে কাজ করে, তবে স্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকার দ্বিধা করবে না। স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনের পথে সরকার এখন যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, তা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে বলে বিশ্বাস করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আমরা একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী স্বাস্থ্যসম্মত সমাজ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত