সর্বশেষ :
ইসরাইলের অকৃত্রিম মিত্র ভারত, ভ্যান্সের মন্তব্যে দ্বিমত নেতানিয়াহুর পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি শুরু: উত্তপ্ত বিচারিক অঙ্গন সৌরবিদ্যুতে গুরুত্ব, জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার ডিসেম্বরেই নতুন বই, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুটিংহীন অবসরে যেভাবে নিজেকে সজীব রাখেন অভিনেত্রী হিমি আমানত আনতে ৪ কোটি টাকার ঘুষ: ডুবছে কমার্স ব্যাংক ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত ভারত: ১০ জনের মৃত্যু, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রেমিকার ঘরে স্ত্রীকে খুন, নেপাল পালানো স্বামী গ্রেফতার পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল ব্রাজিলকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস লিখলেন আর্লিং হলান্ড

শুটিংহীন অবসরে যেভাবে নিজেকে সজীব রাখেন অভিনেত্রী হিমি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার
শুটিংহীন অবসরে যেভাবে নিজেকে সজীব রাখেন অভিনেত্রী হিমি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমিকে পর্দায় দর্শক সাধারণত সাবলীল অভিনয়ে খুঁজে পান। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ব্যস্ত জীবনে তিনি যখন দম ফেলার ফুরসত পান না, তখন তাঁর পৃথিবীটা সীমাবদ্ধ থাকে কেবল স্ক্রিপ্ট আর চরিত্রের গভীরতায়। কিন্তু ক্যামেরার পেছনের মানুষটি কেমন? শুটিংয়ের ঝক্কি-ঝামেলা থেকে মুক্তি পেলে তাঁর মন কী খোঁজে? বিনোদন জগতের কঠোর রুটিনের বাইরে হিমির নিজস্ব এক জগত রয়েছে, যেখানে তিনি সজীবতা ফিরে পান। এই জগতটি তাঁর কাছে কেবল ব্যক্তিগত ভালো থাকার উপায় নয়, বরং অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার এক মহৌষধ। শুটিংয়ের বাইরে হিমি নিজেকে চাঙা রাখতে যে বিশেষ পাঁচটি কাজের ওপর নির্ভর করেন, তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার মতো।

হিমির রিলাক্সেশনের তালিকার একদম প্রথম স্থানে রয়েছে শরীরচর্চা। অভিনয়শিল্পীদের জীবনযাপন খুবই অনিয়মিত। কখন শুটিং শুরু হবে আর কখন শেষ—তার কোনো ঠিক নেই। এই ব্যস্ততার মধ্যে নিজের শরীরের দিকে খেয়াল রাখার সময়টুকু পাওয়া সোনার হরিণ। শুটিং থাকলে নিয়মিত ব্যায়াম করার সুযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। কিন্তু যেই হাতে সময় পান, অমনি তিনি ছুট দেন জিম কিংবা ব্যায়ামের নির্দিষ্ট স্থানে। হিমি জানান, শরীরচর্চা তাঁর কাছে কেবল ফিট থাকার উপায় নয়, এটি তাঁর মানসিক প্রশান্তির অন্যতম মাধ্যম। যখনই কোনো ছুটির দিন আসে, তিনি ঘুম থেকে উঠেই ব্যায়ামের পোশাকে তৈরি হয়ে যান। টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা ঘাম ঝরানো ব্যায়াম তাঁকে দেয় এক অদ্ভুত স্বস্তি ও কর্মশক্তি। এই শারীরিক পরিশ্রম তাঁকে পরের কাজের জন্য নতুন উদ্যমে তৈরি করে তোলে।

অবসর সময়ের দ্বিতীয় বড় আশ্রয়স্থল হলো বিনোদন। একজন অভিনেত্রী হিসেবে অন্যদের কাজ দেখার সুযোগ খুব একটা হয় না। যখনই একটুখানি অবসর মেলে, হিমি ডুবে যান নেটফ্লিক্স কিংবা দেশের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের আলোচিত কনটেন্টগুলোতে। সমসাময়িক কাজগুলো সম্পর্কে নিজেকে আপডেট রাখাটা তিনি নিজের দায়িত্বের অংশ বলেই মনে করেন। বর্তমানে অপূর্ব অভিনীত ওয়েভ ফিল্ম এবং দেশের আরও কিছু গুণী নির্মাতার আলোচিত কাজগুলো তাঁর প্রিয় তালিকার শীর্ষে রয়েছে। শুটিংয়ের খাতিরে যেসব কাজের খবর শোনা হলেও দেখার সময় হয়নি, ছুটির দিনগুলোতে সেগুলোই মনোযোগ দিয়ে উপভোগ করেন তিনি। অন্যের অভিনয়, ক্যামেরার কাজ আর গল্পের বুনন দেখে তিনি নিজের শিল্পসত্তাকে সমৃদ্ধ করার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।

অভিনয় জীবনের ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতায় ঘুমের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। শুটিং সেটে মাঝরাতে কাজ শেষ হওয়া থেকে শুরু করে খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা—সবই হিমির দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুটিংয়ের ফাঁকে যতটুকু সময় পাওয়া যায়, তাতে ঘুমের ঘাটতি মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্তমানে খেলাধুলা দেখার প্রতি হিমির বাড়তি ঝোঁক থাকায় ঘুমের রুটিন আরও এলোমেলো হয়ে গেছে। এই অনিয়ম কাটাতে ছুটির দিনগুলোতে তিনি ঘুমের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হন। শুটিং না থাকলে তিনি নিজেকে সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অনেকটা সময় কেবল ঘুমের জন্য বরাদ্দ রাখেন। দীর্ঘ ও প্রশান্তিময় ঘুম তাঁকে দেয় আগামী দিনের সমস্ত কাজের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার শক্তি।

তবে হিমির জীবনের সবচেয়ে কোমল ও মানবিক দিকটি ফুটে ওঠে তাঁর পোষা বিড়ালগুলোর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোতে। বাড়িতে তাঁর তিনটি আদুরে বিড়াল রয়েছে। শুটিংয়ের কাজে দিনের বড় একটা অংশ বাইরে কাটাতে হয় বলে প্রাণীদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কমই মেলে। যখন শুটিং থাকে না, তখন তিনি এই বিড়ালগুলোর সাথেই বেশিরভাগ সময় পার করেন। তাঁর মতে, এই বিড়ালগুলো কেবল প্রাণী নয়, বরং তাঁর পরিবারের সদস্য। তিনি শুটিংয়ে কখনো কখনো তাদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, বিড়ালগুলো লাইট ও ক্যামেরার কৃত্রিম পরিবেশ দেখে খুব একটা সহজ হতে পারে না। তাই বাসার আরামদায়ক পরিবেশে তাদের আদরে-যত্নে সময় কাটানোই তাঁর জন্য সেরা বিনোদন।

সর্বশেষ এবং সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী কাজটি হলো রাস্তার অবলা প্রাণীদের প্রতি হিমির ভালোবাসা। তাঁর পারিবারিক পরিবেশে প্রাণীদের প্রতি মমত্ববোধ জন্মগতভাবেই তৈরি হয়েছে। হিমি জানান, তিনি শুটিংয়ে থাকলেও তাঁর মা নিয়মিত রাস্তার কুকুর ও বিড়ালদের জন্য বাড়িতে খাবার রান্না করেন। এরপর বাবা সেই খাবারগুলো নিয়ে রাস্তার সুবিধাবঞ্চিত প্রাণীদের বিলিয়ে দেন। এই মানবিক কাজের সাথে হিমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শুটিং না থাকলে বাবার সাথে খাবারের ঝুড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বাঁধা নিয়ম। রাস্তার কুকুরদের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং তাদের সেবা করতে পারাটা তাকে ভেতর থেকে এক তৃপ্তি এনে দেয়। হিমির কাছে এই পাঁচটি কাজ কেবল শখ নয়, বরং জীবনের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা ও আনন্দের উৎস। তিনি বিশ্বাস করেন, অভিনয়শিল্পীদেরও মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য, মনকে সজীব রাখার জন্য নিজস্ব কিছু ভালোলাগার জগত প্রয়োজন। এই জগতগুলোই তাকে অভিনয় জীবনে আরও বেশি করে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার শক্তি জোগায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত