সর্বশেষ :
ইসরাইলের অকৃত্রিম মিত্র ভারত, ভ্যান্সের মন্তব্যে দ্বিমত নেতানিয়াহুর পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি শুরু: উত্তপ্ত বিচারিক অঙ্গন সৌরবিদ্যুতে গুরুত্ব, জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার ডিসেম্বরেই নতুন বই, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুটিংহীন অবসরে যেভাবে নিজেকে সজীব রাখেন অভিনেত্রী হিমি আমানত আনতে ৪ কোটি টাকার ঘুষ: ডুবছে কমার্স ব্যাংক ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত ভারত: ১০ জনের মৃত্যু, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রেমিকার ঘরে স্ত্রীকে খুন, নেপাল পালানো স্বামী গ্রেফতার পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল ব্রাজিলকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস লিখলেন আর্লিং হলান্ড

সৌরবিদ্যুতে গুরুত্ব, জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১ বার
সৌরবিদ্যুতে গুরুত্ব, জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার

প্রকাশ: ০৬ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘস্থায়ী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সরকার এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার মাধ্যমেই সরকার বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করা জ্বালানি আমদানির এই বোঝা লাঘব করা এখন সময়ের দাবি। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বিগত দিনে বিদ্যুৎ খাতে তৈরি হওয়া বিশাল ঋণ ও দায়দেনা পরিশোধের জন্য এটিই বর্তমান সরকারের অন্যতম কার্যকর উপায়। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার কোনোভাবেই ভোক্তার ওপর খরচের বোঝা চাপাতে রাজি নয় বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী বেসরকারি খাতের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে করা বিভিন্ন বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির কারণে সরকার এখনো অনেকটা বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পাওনা বকেয়া থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা লোডশেডিংয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎমূল্য সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের কাছে অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প ছিল না। কিন্তু এখনকার নতুন লক্ষ্য হলো, ধীরে ধীরে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটিয়ে এই উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ কেনার নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা।

সংলাপে জ্বালানি খাতের বিশদ বিশ্লেষণে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন। তিনি সরকারের নতুন কৌশলপত্রের প্রশংসা করলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা কাগজে-কলমে নির্ধারণ করলেই হবে না, বরং এর উৎপাদন ও বিনিয়োগ কাঠামোতে ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষিত থাকতে হবে। অধ্যাপক শামসুল আলমের মতে, কৌশলপত্রটি চূড়ান্ত করার আগে বিদ্যুৎ খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিইআরসির স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক সুশাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে শতভাগ বেসরকারি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হলেও, সেই বিদ্যুৎ ক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি সাশ্রয়ী ও যুক্তিসঙ্গত মূল্য কাঠামো থাকা জরুরি। যদি বিদ্যুতের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তবে সেই উন্নয়ন টেকসই হবে না।

বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে বিশ্বজুড়েই উৎপাদন খরচ কমছে। বাংলাদেশেও সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে সঠিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল পর্যায়ে আনা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে শুধু বড় বড় প্রকল্প নয়, বরং গ্রামীণ পর্যায় থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার কথা উঠে আসে সংলাপে। সরকারি এই উদ্যোগ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে জাতীয় গ্রিডে যেমন বিদ্যুৎ বাড়বে, তেমনি সাধারণ মানুষও ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংলাপে আরও বলেন যে, নতুন কৌশলপত্র অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের হার ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে ফসিল ফুয়েল বা জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ওপর থেকে সরকারের নির্ভরতা কমবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের জ্বালানি খাতের আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়। তবে এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তিনি কোনো শর্টকাট বা অস্বচ্ছ পথ অবলম্বন করতে নারাজ। জনগণের কষ্ট লাঘব এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের এই নতুন জ্বালানি কৌশলের মূলমন্ত্র।

সংলাপের সমাপ্তিতে এটি স্পষ্ট যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত আশাবাদী। যদিও চ্যালেঞ্জ অনেক, তবুও সঠিক আইনি প্রতিকার, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তার স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা এবং বিইআরসির মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা গেলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে এগিয়ে যেতে পারবে। মন্ত্রী এবং বিশেষজ্ঞ উভয়েই একমত হয়েছেন যে, জ্বালানি খাতের সংস্কার ছাড়া একটি শিল্পপ্রধান দেশের উন্নয়ন কল্পনা করা অসম্ভব। সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সাথে সাথে যদি প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করা যায়, তবেই কেবল জ্বালানি আমদানির চাপের অবসান ঘটবে। দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের ঘরে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার যে স্বপ্ন সরকার দেখছে, তার বাস্তবায়নের জন্য এখন প্রয়োজন কঠোর তদারকি ও সাহসী পদক্ষেপ। সরকার আশা করছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই কৌশলপত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত