সর্বশেষ :
ইসরাইলের অকৃত্রিম মিত্র ভারত, ভ্যান্সের মন্তব্যে দ্বিমত নেতানিয়াহুর পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি শুরু: উত্তপ্ত বিচারিক অঙ্গন সৌরবিদ্যুতে গুরুত্ব, জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার ডিসেম্বরেই নতুন বই, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুটিংহীন অবসরে যেভাবে নিজেকে সজীব রাখেন অভিনেত্রী হিমি আমানত আনতে ৪ কোটি টাকার ঘুষ: ডুবছে কমার্স ব্যাংক ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত ভারত: ১০ জনের মৃত্যু, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রেমিকার ঘরে স্ত্রীকে খুন, নেপাল পালানো স্বামী গ্রেফতার পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল ব্রাজিলকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস লিখলেন আর্লিং হলান্ড

পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার
পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হলো গ্রাম ও পল্লী জনপদ। এই জনপদের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ছাড়া জাতীয় সমৃদ্ধি কখনোই সম্ভব নয়। এই দর্শনকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার পল্লী উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সোমবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক পল্লী উন্নয়ন দিবস’ এবং সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান নির্বাচিত সরকার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করছে। সরকারের উন্নয়ন দর্শন এখন শহরের আধুনিক সুবিধাকে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রামের মানুষের উৎপাদনশীলতাকে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্যে পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং মানুষের মানবিক মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত কার্ড, যা সরাসরি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে। সরকারি এই উদ্যোগগুলো মূলত তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের ক্ষমতায়ন এবং তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। সরকারের এই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতি সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সিরডাপের ভূমিকা সম্পর্কে মন্ত্রী অত্যন্ত প্রশংসা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত পাঁচ দশক ধরে সিরডাপ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পল্লী উন্নয়নে যে অবদান রেখে আসছে, তা অত্যন্ত গৌরবের। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে তাদের ভূমিকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের কার্যক্রম বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হয়েছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনযাত্রা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সিরডাপের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং উদ্ভাবনী গবেষণা স্থানীয় কৃষকদের এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকে থাকতে সাহস জোগাচ্ছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতেও সিরডাপের সাথে বাংলাদেশের এই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হবে।

গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা মানবিক ও বাস্তবধর্মী, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্রামগুলো এখন আর কেবল কৃষিভিত্তিক নয়, বরং সেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হচ্ছে। বেকারত্ব দূরীকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে সরকার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করেছে। প্রান্তিক কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদ করতে পারে। গ্রামীণ জনপদের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার পর এখন সরকার ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে কাজ করছে। এর ফলে গ্রামের মানুষ এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করার সময় সাধারণ প্রান্তিক মানুষের চাহিদাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অর্থ হলো কেউ যেন উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত না থাকে। সরকারের এই লক্ষ্য অর্জনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিটি প্রশাসনকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছায়, সেজন্য নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হচ্ছে। উন্নয়ন মানে কেবল রাস্তাঘাট বা দালান তৈরি নয়, উন্নয়ন মানে প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং একটি সমৃদ্ধ সমাজ গঠন করা—যা বর্তমান সরকার তার প্রতিটি পদক্ষেপে প্রমাণ করে যাচ্ছে।

পরিশেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্রামীণ উন্নয়নকে টেকসই করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে পল্লী উন্নয়ন সম্ভব নয়, যদি না এর সাথে স্থানীয় জনগণ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পৃক্ত থাকে। আমাদের দেশের মানুষের কর্মস্পৃহা ও মেধা আছে, শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগের। বর্তমান সরকার সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে সর্বদা সচেষ্ট। পল্লী অঞ্চলে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তোলার জন্য বেসরকারি খাতের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম একদিন স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে এবং সেখান থেকেই উদ্ভূত হবে আগামীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি—এই লক্ষ্য নিয়েই সরকার আগামী দিনের পথচলা অব্যাহত রাখবে। সরকারের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষ একটি উন্নত ও আধুনিক জীবনের স্বাদ পাবে, এটাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত