সর্বশেষ :
ইসরাইলের অকৃত্রিম মিত্র ভারত, ভ্যান্সের মন্তব্যে দ্বিমত নেতানিয়াহুর পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি শুরু: উত্তপ্ত বিচারিক অঙ্গন সৌরবিদ্যুতে গুরুত্ব, জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার ডিসেম্বরেই নতুন বই, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুটিংহীন অবসরে যেভাবে নিজেকে সজীব রাখেন অভিনেত্রী হিমি আমানত আনতে ৪ কোটি টাকার ঘুষ: ডুবছে কমার্স ব্যাংক ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত ভারত: ১০ জনের মৃত্যু, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রেমিকার ঘরে স্ত্রীকে খুন, নেপাল পালানো স্বামী গ্রেফতার পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল ব্রাজিলকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস লিখলেন আর্লিং হলান্ড

ডিসেম্বরেই নতুন বই, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১ বার
ডিসেম্বরেই নতুন বই, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়

প্রকাশ: ০৬ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে সরকার। সোমবার সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন যে, সরকার এবার ডিসেম্বরের মধ্যেই বার্ষিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার একটি সাহসী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা হলো, কোনোভাবেই যেন নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুর দিনে শিক্ষার্থীরা বইহীন না থাকে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নভেম্বরের মধ্যেই পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ ও বিতরণের এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং চ্যালেঞ্জিং। সাধারণত প্রতি বছরই বই ছাপানো ও সময়মতো তা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো একটি বড় ধরণের পরীক্ষার মতো। তবে এবারের লক্ষ্যমাত্রা আরও কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে দ্রুত নতুন বই তুলে দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ছাপাখানার সক্ষমতা বাড়ানো এবং মুদ্রণ কাজে কোনো ধরণের বিলম্ব যাতে না ঘটে, সেজন্য মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। মুদ্রণ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে যাতে কোনো সংকট তৈরি হওয়ার আগেই তার সমাধান করা সম্ভব হয়।

টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পুরো কার্যক্রমটি স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে যে, আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশ প্রদান করা হবে। এই কার্যাদেশ পাওয়ার পর থেকেই রাত-দিন কাজ করে বই ছাপানোর গতি বাড়িয়ে দেওয়া হবে। আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এই চার মাস সময়কে কাজে লাগিয়ে সরকার শতভাগ বই ছাপিয়ে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিতরণের জন্য পাঠিয়ে দেবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই উপজেলায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষাক্রম বা কারিকুলামেও কিছুটা পরিমার্জন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে শিক্ষাক্রমে সামঞ্জস্য আনা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন শিক্ষাবর্ষে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণিতে চারটি নতুন বই যুক্ত করা হচ্ছে। এই নতুন বইগুলো শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা এবং বাস্তবধর্মী জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষাক্রমের এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে শিক্ষাবিদদের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং তা যেন শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণ না হয়, সে বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। নতুন এই বইগুলোর বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।

ভাষা শিক্ষা প্রসারের বিষয়টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। তবে এই ক্ষেত্রে দক্ষ শিক্ষকের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভাষা শিক্ষা কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি একটি দক্ষতা। উপযুক্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। আগামী বছর থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষার মান উন্নত করতে। এটি কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়বে এবং তারা বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

রেজাল্ট বা ফলাফলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার আরও একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, ভবিষ্যতে রেজাল্ট খারাপ হলে শিক্ষার্থীরা নিজের পরীক্ষার খাতা পুনরায় যাচাই করার সুযোগ পাবে। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষার প্রতি ভীতি দূর করবে এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে। কোনো শিক্ষার্থী যদি মনে করে তার ফলাফলে সে বঞ্চিত হয়েছে, তবে সে নিয়মানুযায়ী আবেদনের মাধ্যমে খাতা পুনর্নিরীক্ষার দাবি জানাতে পারবে। সরকারের এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে এবং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করবে।

শিক্ষকদের নিয়োগ ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে মন্ত্রী তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শিক্ষকরা যদি সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে চান, তবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হবে। শিক্ষার মতো একটি পবিত্র ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে উঠলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সহজ হবে। তিনি বলেন, জাতি গঠনের কারিগর হিসেবে শিক্ষকদের কেবল পাঠদানের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থান দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার এই পরিকল্পনা সফল হলে তা হবে শিক্ষা খাতের জন্য একটি বড় সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন অনুযায়ী একটি শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে, এই পাঠ্যপুস্তক বিতরণ প্রক্রিয়া তার একটি অংশমাত্র। প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার কেবল শিক্ষার আলোই ছড়িয়ে দিচ্ছে না, বরং নতুন প্রজন্মের মনে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নও বুনে দিচ্ছে। মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের সাথে সরকারি দপ্তরের সমন্বয় এবং সুষ্ঠু মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে আগামী ডিসেম্বরেই দেশজুড়ে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতেই নতুন বইয়ের গন্ধ নিয়ে স্কুলে যাত্রা শুরু করবে। সরকারের এই লক্ষ্য পূরণ হোক এটাই এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত