সর্বশেষ :
ইসরাইলের অকৃত্রিম মিত্র ভারত, ভ্যান্সের মন্তব্যে দ্বিমত নেতানিয়াহুর পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি শুরু: উত্তপ্ত বিচারিক অঙ্গন সৌরবিদ্যুতে গুরুত্ব, জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার ডিসেম্বরেই নতুন বই, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুটিংহীন অবসরে যেভাবে নিজেকে সজীব রাখেন অভিনেত্রী হিমি আমানত আনতে ৪ কোটি টাকার ঘুষ: ডুবছে কমার্স ব্যাংক ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত ভারত: ১০ জনের মৃত্যু, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রেমিকার ঘরে স্ত্রীকে খুন, নেপাল পালানো স্বামী গ্রেফতার পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল ব্রাজিলকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস লিখলেন আর্লিং হলান্ড

প্রেমিকার ঘরে স্ত্রীকে খুন, নেপাল পালানো স্বামী গ্রেফতার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার
প্রেমিকার ঘরে স্ত্রীকে খুন, নেপাল পালানো স্বামী গ্রেফতার

প্রকাশ: ০৬ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের পুনেতে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটিতে আরও একটি লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে। এবার ঘটনাস্থল হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামের মানেসর এলাকা। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় এক তরুণীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সহযোগিতা করেছে ওই পাষণ্ড স্বামীর আটত্রিশ বছর বয়সি প্রেমিকা। প্রেমিকার ভাড়া করা ঘরেই সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে গিয়ে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। অপরাধ সংঘটনের পর নিজেদের বাঁচাতে এই যুগল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে নেপালে আশ্রয় নিয়েছিল। তবে অপরাধ করে পার পাওয়া যে এত সহজ নয়, তা আবারও প্রমাণিত হলো। দীর্ঘ পলাতক জীবনের পর দেশে ফিরতেই পুলিশের জালে ধরা পড়তে হয়েছে তাদের।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২১ মে, যখন বাইশ বছর বয়সি ওই তরুণী হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই মানেসরের বাসিন্দা পঁচিশ বছর বয়সি অঙ্কিতের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। নতুন জীবনে পা রাখার পর তিন মাস পার হতে না হতেই এমন একটি ঘটনায় তরুণীর পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে। নিখোঁজ হওয়ার পর তরুণীর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা প্রথম ছুটে যান মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা চরম হতাশা ও সন্দেহের সম্মুখীন হন। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি, বরং তাদের আচরণে এক ধরনের অস্বাভাবিক নির্লিপ্ততা প্রকাশ পায়।

মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে এবং স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের আচরণে সন্দেহ দানা বাঁধলে, গত ২২ মে তরুণীর মা বাধ্য হয়ে মানেসর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একজন মায়ের এই আর্তনাদ ও অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তে নামে। পুলিশের তৎপরতায় খুব দ্রুতই নিখোঁজ রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে ওই দিনই মানেসর এলাকার একটি সন্দেহভাজন ভাড়া কক্ষের সন্ধান পায় পুলিশ। সেই কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই পুলিশ ও উপস্থিত সকলের সামনে এক বীভৎস দৃশ্য উন্মোচিত হয়। ঘরের ভেতর পড়ে ছিল নিখোঁজ ওই তরুণীর রক্তাক্ত নিথর দেহ। প্রাথমিক সুরতহাল ও তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজ ডায়েরি মুহূর্তেই একটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয় এবং পুলিশ অপরাধীদের ধরতে তাদের জাল বিস্তার করতে শুরু করে।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নিহতের স্বামী অঙ্কিত এবং তার এক নারী সহযোগী পলাতক ছিলেন। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জানা যায়, অঙ্কিতের সাথে রজনী দেবী নামের আটত্রিশ বছর বয়সি এক নারীর দীর্ঘদিনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। রজনীর আদি বাড়ি হরিয়ানার ঝাঝ্জর জেলায় হলেও সে কাজের সুবাদে মানেসরেই বসবাস করত। পেশাগত দিক থেকে অঙ্কিত মানেসর এলাকায় একটি তামাকের দোকান চালাত এবং রজনী একই এলাকায় একটি বিউটি পার্লারে কাজ করত। পাশাপাশি কাজ করতে গিয়েই তাদের মধ্যে গত তিন বছর ধরে এই গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, অঙ্কিত তার পরিবারকে সন্তুষ্ট করতেই হয়তো ফেব্রুয়ারি মাসে ওই তরুণীকে বিয়ে করেছিল, কিন্তু মনে মনে সে রজনীকেই চাইত। বিয়ের পর স্ত্রী তাদের এই অবৈধ সম্পর্কের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ালে, তারা দুজনে মিলে তাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার এক ভয়ংকর ছক কষে। হত্যাকাণ্ডের স্থান হিসেবে রজনীর ভাড়া করা কক্ষটিকেই বেছে নেওয়া হয়, যাতে অপরাধ সংঘটনের পর প্রমাণ নষ্ট করা সহজ হয়। ঘটনার দিন, অর্থাৎ ২১ মে, অঙ্কিত অত্যন্ত সুকৌশলে তার স্ত্রীকে ফুঁসলিয়ে রজনীর ওই কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিল রজনী। এরপর দুজনে মিলে নিরস্ত্র ও অসহায় ওই তরুণীকে গুলি করে হত্যা করে। জীবনের নতুন স্বপ্ন নিয়ে যে মেয়েটি শ্বশুরবাড়িতে পা রেখেছিল, নিজের স্বামীর হাতেই তাকে এমন নিষ্ঠুর পরিণতির শিকার হতে হলো।

এই হত্যাকাণ্ড কোনো আকস্মিক রাগের বশবর্তী হয়ে করা হয়নি, বরং এটি ছিল অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সাজানো এক পূর্বপরিকল্পিত খুন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথাতেই অঙ্কিত ও রজনী মিলে তরুণীকে হত্যার নীলকশা চূড়ান্ত করে ফেলেছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, স্ত্রীকে খুন করে নিজেদের পথের কাঁটা দূর করার একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়েই তারা আগেভাগে এই মারণাস্ত্রটি কিনে রেখেছিল। একটি তরতাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়ার জন্য এতটা সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার এই মানসিকতা অপরাধীদের চরম নিষ্ঠুরতাকেই প্রমাণ করে।

রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে অপরাধীরা ভেবেছিল তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেতে পারবে। খুনের পরপরই অঙ্কিত ও রজনী মানেসর থেকে পালিয়ে প্রথমে উত্তরাখণ্ডের পবিত্র শহর হরিদ্বারে গিয়ে গা-ঢাকা দেয়। সেখানে কিছুদিন লুকিয়ে থাকার পর তারা বুঝতে পারে যে ভারতীয় পুলিশ যেকোনো মুহূর্তে তাদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। গ্রেফতারের ভয়ে তারা সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ নেপালে পালিয়ে যায়। নেপালে তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে ছিল।

কিন্তু বিদেশে পালিয়ে গিয়েও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বা অর্থের অভাবে গত ৩০ জুন তারা অতি সন্তর্পণে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। কিন্তু মানেসরের ক্রাইম ব্রাঞ্চের চৌকস পুলিশ দল আগে থেকেই তাদের সম্ভাব্য গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছিল। তারা ভারতে পা রাখতেই পুলিশের পাতা জালে ধরা পড়ে যায়। অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে পুলিশ তাদের দুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত অঙ্কিত এবং রজনী দেবীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আরও তথ্য প্রমাণের জন্য আদালত তাদের দুজনকেই পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অস্ত্রটি উদ্ধার করা এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে এই ঘটনার মাধ্যমে। পবিত্র বৈবাহিক সম্পর্কের আড়ালে এমন চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও নিষ্ঠুরতা সাধারণ মানুষকেও গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। একটি নিষ্পাপ মেয়ের জীবন অকালেই ঝরে গেল শুধুমাত্র দুজনের অবৈধ লালসার কারণে। নিহতের পরিবার এখন চরম শোকের মধ্যে দিন পার করছে এবং তারা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে তা সমাজে একটি কড়া বার্তা হিসেবে কাজ করবে। একটি সুন্দর আগামীর জন্য এমন অপরাধীদের কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির কোনো বিকল্প নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত