এলএনজি কার্গো বিতর্কে তীব্র গ্যাস সংকট

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সৌদি আরামকো থেকে আমদানি করা এলএনজিবাহী একটি কার্গোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতা। কার্গোটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে সেখান থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি খালাসে আপত্তি জানিয়েছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। এতে তিন দিন ধরে কার্গোটি বহির্নোঙরে অবস্থান করছে এবং দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বৈরী আবহাওয়াকে কার্গোটি টার্মিনালে সংযুক্ত না হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, মূল সমস্যা হলো জাহাজটির নিরাপত্তা ও টার্মিনালের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নিয়ে এক্সিলারেটের আপত্তি।

গ্যাস সরবরাহ কমে বর্তমানে দৈনিক ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

দেশে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের। দুটি টার্মিনালই পরিচালনার সঙ্গে এক্সিলারেট যুক্ত।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই দেশে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় সরবরাহ নেমে আসে ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুটে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার এক্সিলারেট এনার্জির উপদেষ্টা ও সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আরামকোর পাঠানো কার্গো থেকে এলএনজি খালাসের অনুরোধ জানানো হয়।

তবে এক্সিলারেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে আল হামরা নামের কার্গোটি সামিটের টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করে এলএনজি খালাস করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, এ ধরনের কার্গো সামিটের টার্মিনালের জন্য প্রযোজ্য নয়।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, যদি কার্গোটি টার্মিনালের জন্য উপযোগী না হয়ে থাকে, তাহলে এটি বাংলাদেশে আমদানি করা হলো কেন। সরকারের পক্ষে এলএনজি আমদানির দায়িত্বে থাকা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, ২০২১ সালেও একই ধরনের কার্গোতে এলএনজি আমদানি করা হয়েছিল এবং তখন এক্সিলারেটই সেটি খালাস করেছিল।

বাংলাদেশ সাধারণত মেমব্রেইন টাইপের কার্গোতে এলএনজি আমদানি করে। তবে এবার সৌদি আরামকো থেকে মস টাইপের কার্গোতে এলএনজি আনা হয়েছে। ১১ আগস্ট মধ্যরাতে ‘আল হামরা’ নামের কার্গোটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে।

জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রতি সেকেন্ডে বাতাসের গতি ১৫ থেকে ২০ মিটার থাকলেও কার্গো টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব। বর্তমানে মাতারবাড়ীতে অন্য জাহাজ টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। কিন্তু আল হামরাকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে এক্সিলারেট এখনো সবুজ সংকেত দেয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এক্সিলারেটের আপত্তির মূল কারণ আবহাওয়া নয়; বরং জাহাজটির বয়স ও নিরাপত্তা। এক্সিলারেট ও সামিটের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আল হামরা পুরোনো মডেলের জাহাজ এবং সামিটের টার্মিনালের জন্য এটি অনুমোদিত নয়।

তাদের দাবি, কোন ধরনের এলএনজিবাহী কার্গো টার্মিনালে গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়ে একটি তালিকা আগেই পেট্রোবাংলাকে দেওয়া হয়েছিল। আল হামরা ওই তালিকায় নেই।

তবে আরপিজিসিএলের কর্মকর্তারা এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের দাবি, ২০২১ সালে ‘মারায়েহ’ নামের একই ধরনের কার্গো বাংলাদেশে এসে এলএনজি খালাস করেছিল। তখনও এক্সিলারেটই ওই কার্গো থেকে এলএনজি খালাস করে।

এদিকে গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার ঘটনার পর। ওই সময় দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ২১০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়। ৫ আগস্ট এক্সিলারেটের কার্যক্রম আংশিকভাবে চালু হলে সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৩৫ কোটি ঘনফুট হয়। কিন্তু নতুন কার্গো জটিলতায় সরবরাহ আবারও বড় ধাক্কা খেয়েছে।

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত মাসের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্য দরপত্র দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর জরুরি ভিত্তিতে জি-টু-জি ব্যবস্থায় সৌদি আরামকো থেকে এলএনজি আমদানি করা হয়।

এখন সরকার এক্সিলারেটকে আল হামরা থেকে এলএনজি খালাসের অনুমতি দেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দ্রুত সমাধান না হলে নতুন করে গ্যাস সংকট বাড়তে পারে।

পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার ‘বিটল এশিয়া’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী কার্গো বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। সেটি সামিটের টার্মিনালে সংযুক্ত করা হতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে এক্সিলারেটের একটি টার্মিনাল দুই থেকে তিন দিনের জন্য বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হবে। ফলে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত