প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ঢালুয়া বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে ঢালুয়া এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন বিকেলে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার সমর্থক উপজেলা ছাত্রদলের নেতা মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।
অন্যদিকে, বর্তমান সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থক উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিনের নেতৃত্বেও পৃথক একটি মিছিল বের হয়। পরে দুটি পক্ষ ঢালুয়া বাইপাস এলাকায় মুখোমুখি হলে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এর আগে বুধবার বিকেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে নাঙ্গলকোটে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হায়রে অপরাজনীতি, মিছিল করলো আওয়ামী লীগ, খুশি হলো গফুর লীগ, ব্যর্থ হলো এমপি, বিচার করবে জনগণ।’
পোস্টটির নিচে কয়েকজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করলে পালটা মন্তব্যে এমপির ভেরিফায়েড আইডি থেকে আঞ্চলিক ভাষায় প্রকাশ-অনুপযোগী শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
উপজেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ মিছিল শেষ করার আগেই আবদুল মমিন, আলী হাসান টিপু ও আব্দুর রহিম সুজনের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালান।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিন। তার দাবি, তারা কোনো হামলা করেননি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল।
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, তার আইডি থেকে দেওয়া পোস্ট ও মন্তব্যের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিএনপির ওপর কেন হামলা করবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশি তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।