তিন মাসে আইপিএসের দাম বেড়েছে ৩২ শতাংশ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৮ বার

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গ্যাস সংকটের পাশাপাশি ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে। অসহনীয় গরম ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেকে আইপিএস, ব্যাটারি, চার্জার ফ্যান ও বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন। তবে বাড়তি চাহিদার সুযোগে এসব পণ্যের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন মার্কেটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন মাসে আইপিএসের দাম গড়ে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে আইপিএস ব্যাটারির দাম বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। চার্জার ফ্যানের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক চুলার দামও কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন মাস আগে চট্টগ্রামে মাঝারি মানের একটি আইপিএস ২৪ থেকে ২৬ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এখন সেটির দাম ৩২ থেকে ৩৩ হাজার টাকা। ভালো মানের আইপিএসের দামও বেড়েছে। আগে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া এসব আইপিএস এখন ৩৮ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

আইপিএসের পাশাপাশি বেড়েছে ব্যাটারির দাম। তিন মাস আগে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ব্যাটারি এখন ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের ব্যাটারির দাম বর্তমানে ২৩ থেকে ২৬ হাজার টাকা। তিন মাস আগে একই ধরনের ব্যাটারির দাম ছিল প্রায় ২১ হাজার টাকা।

বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে চাহিদা বেড়েছে চার্জার ফ্যানেরও। তিন মাস আগে যে চার্জার ফ্যান তিন হাজার টাকার আশপাশে পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সংকটের কারণে বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদাও বেড়েছে। তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া কিছু বৈদ্যুতিক চুলার দাম এখন সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার বেশি। ভালো মানের চুলার দাম বেড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা হয়েছে, যেখানে তিন মাস আগেও এসব পণ্যের দাম ছিল প্রায় ছয় থেকে আট হাজার টাকা।

দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। উত্তর কাট্টলীর বাসিন্দা রোখসানা আরা বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাঁর দুই সন্তানের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। বড় ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা ধার করে আইপিএস কিনতে এসে দেখেছেন, কয়েক মাসের ব্যবধানে একই পণ্যের দাম কয়েক হাজার টাকা বেড়েছে।

রাইফেল ক্লাব মার্কেটে চার্জার ফ্যান কিনতে আসা পাঁচলাইশের বাসিন্দা জমির উদ্দিনও একই অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, কয়েক মাস আগে তিন হাজার টাকায় পাওয়া ফ্যান এখন পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।

খতিবের হাটের বাসিন্দা নিগার সুলতানা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে বৈদ্যুতিক চুলা কিনতে এসে তিনি জানতে পারেন, কয়েক হাজার টাকা বেড়েছে পণ্যের দাম।

ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ অবশ্য দাম বৃদ্ধির জন্য বাজারে সরবরাহ সংকট ও চাহিদা বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। রাইফেল ক্লাব ইলেকট্রনিকস মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শামীম বলেন, কিছু কোম্পানি, বড় ব্যবসায়ী ও ডিলার লোডশেডিং এবং বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু ব্যবসায়ীও এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত।

একেএম ব্যাটারি হাউসের মালিক বেলাল হোসেন বলেন, আগের তুলনায় আইপিএস, চার্জার ফ্যান ও বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু অধিকাংশ কোম্পানি সে অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করছে না। তাঁর মতে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে এবং কয়েকটি কোম্পানি সংকটের অজুহাতে দাম বাড়িয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষ যখন বিপাকে, তখন সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়েছেন। বাজার তদারকির জন্য একাধিক সংস্থা থাকলেও কার্যকর অভিযান দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, গত এক বছরেও ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারে কোনো সরকারি সংস্থার অভিযান চোখে পড়েনি। ফলে বাজারে সরবরাহ, মূল্য নির্ধারণ ও ব্যবসায়ীদের কারসাজি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

চট্টগ্রামে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিকল্প বিদ্যুৎ ও রান্নার সরঞ্জামের চাহিদা বাড়লেও সেই চাহিদা পূরণে বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যদি কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা যুক্ত হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সীমিত আয়ের ভোক্তারা। বাজার তদারকি জোরদার না হলে সামনে এসব পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত