প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা থেকে ছয়টি ইউনিয়ন পৃথক করে পার্শ্ববর্তী বেলাব ও শিবপুর উপজেলার সাথে যুক্ত করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উপজেলা সবল বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের জোয়ারে ভেসে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রতিটি স্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করছে স্থানীয়রা। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক নেতারা প্রয়োজনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও রেলপথ বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার উপজেলার মরজাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে কয়েক শত মানুষ অংশ নেন। তারা ‘তোমার আমার ঠিকানা, রায়পুরা রায়পুরা’, ‘রায়পুরা ভাঙতে দিবো না, আসন ভাগ হতে দিবো না’—এরকম নানা স্লোগান দিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বক্তারা জানান, যে ইউনিয়নগুলোকে শিবপুর ও বেলাব উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো রায়পুরার তুলনায় অনেক দূরে অবস্থিত। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বীরশ্রেষ্ঠদের গৌরবময় রায়পুরাকে বিভক্ত করা ঠিক হবে না। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, রায়পুরা থেকে একটি ইউনিয়নও অন্য উপজেলায় নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যার মধ্যে থাকবে মহাসড়ক, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, “রায়পুরা থেকে একটি ইউনিয়নও এদিক-সেদিক করতে দেয়া হবে না। আমরা এক ইঞ্চি মাটিও ছাড় দেবো না। মহাসড়ক বন্ধ করে আন্দোলন করা হবে। এরপর কোনো ক্ষতি হলে দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।”
জানা গেছে, সম্প্রতি নরসিংদী-৪ (বেলাব-মনোহরদী) আসনকে আলাদা সংসদীয় আসন ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বেলাববাসী। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে বেলাবের বাসিন্দা ইলিয়াস উদ্দিন প্রস্তাব দেন, রায়পুরার মুছাপুর, মির্জাপুর, বেলাবো, রাধানগর, উত্তর বাখরনগর, ডৌকারচর ও মরজাল ইউনিয়নগুলোকে শিবপুরের সাথে যুক্ত করা হোক।
প্রস্তাবটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রায়পুরার সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও ছাত্রসমাজ ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং প্রতিবাদী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রায়পুরার মানুষের অভিযোগ, উপজেলার ঐতিহ্য ও একত্রিত পরিচয় রক্ষার স্বার্থে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন এবং প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন করতেও তারা প্রস্তুত।