ডাকসু ভোটে স্বচ্ছতার দাবিতে ম্যানুয়াল গণনার আবেদন উমামা ফাতেমার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
উমামা ফাতেমা রোকেয়া হলে অনিয়মিত প্রবেশ নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ও ঐক্য প্যানেলের সহ-সভাপতি পদে প্রার্থী উমামা ফাতেমা। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই তিনি ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ম্যানুয়াল গণনার দাবি জানান।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উমামা ফাতেমা ডাকসুর চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। এতে তিনি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটার তালিকার কপি সরবরাহ, মেশিনের পরিবর্তে হাতে গণনার মাধ্যমে ভোট পুনঃনিরীক্ষা, এবং নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। উমামা ফাতেমার মতে, এসব পদক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।

২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে উমামা ফাতেমা ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট পান। তবে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে জয়ী হন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী মো. আবু সাদিক, যিনি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন সাদিক কায়েম নামে পরিচিত। ভোটের দিনই উমামা ফাতেমা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

উমামা ফাতেমার দাবি অনুযায়ী, ভোটের ম্যানুয়াল গণনা দেশের শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা পুনঃস্থাপন করতে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “ডাকসু নির্বাচন শুধুমাত্র একটি শিক্ষার্থী সংগঠনের ভোটাভুটি নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরীক্ষা। প্রতিটি ভোটের সঠিক হিসাব এবং প্রমাণ উন্মুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ওএমআর মেশিনের ব্যবহার প্রায়শই গণনা প্রক্রিয়ায় ত্রুটি বা অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করতে পারে। তাই হাতে গণনা নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনো শিক্ষার্থী ভোটের ফলাফলে অনিয়ম বা ত্রুটির কারণে অসন্তুষ্ট না হয়। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার মাধ্যমে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেছে। কমিশন জানিয়েছে, কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে উমামা ফাতেমার দাবি নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষার্থী সমাজে পুনরায় ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্বাচনের দিনই উমামা ফাতেমা তার সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তার সমর্থকরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছু কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে, যা ভোটের প্রকৃত ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে উমামা ম্যানুয়াল গণনার মাধ্যমে ভোট পুনঃনিরীক্ষার আবেদন জমা দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মনে করছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উমামা ফাতেমার পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, ‘যদি ভোট পুনঃগণনা করা হয়, তা শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করবে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনে অংশগ্রহণ উৎসাহিত করবে।’

ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাসে ভোটবদ্ধতা ও স্বচ্ছতার দাবির ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থী সমাজে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যে বিভিন্ন প্রার্থী ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে এবার উমামা ফাতেমার দাবিতে ভোট পুনঃগণনার আবেদন হওয়ায় শিক্ষার্থী সমাজে রাজনৈতিক সচেতনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব আরও দৃঢ় হয়েছে।

উমামা ফাতেমা নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের প্রতিটি ধাপকে উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সেই ভোটের প্রতি আস্থা রাখা এবং ফলাফলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা সমগ্র শিক্ষার্থী সমাজের জন্য অপরিহার্য।’

নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি আসার আগেই শিক্ষার্থী সমাজে ভোটের স্বচ্ছতা এবং গণনা প্রক্রিয়ার উপর আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বৈঠক, মিটিং এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়মিত তুলে ধরছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনও উমামা ফাতেমার দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে। তাদের মতে, ভোটের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করা এবং ফলাফল পুনঃনিরীক্ষা করা শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে বিশ্বাস ও স্বচ্ছতার বার্তা বহন করবে। এছাড়া এটি আগামী নির্বাচনের জন্য একটি দৃঢ় শিক্ষা হবে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

উমামা ফাতেমার এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থী সমাজে একটি নতুন রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার এবং ভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও সক্রিয়ভাবে মনোযোগী হচ্ছে। তাদের দাবি, ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতের শিক্ষার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ হ্রাস পেতে পারে।

উমামা ফাতেমার মতে, ম্যানুয়াল গণনা এবং ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হলে শুধু ফলাফলের স্বচ্ছতা নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনঃস্থাপনও সম্ভব। তিনি বলেন, ‘এটি একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হবে যে, শিক্ষার্থী সমাজে কোন প্রকার অনিয়মকে সহ্য করা হবে না এবং প্রত্যেক ভোটের গুরুত্ব স্বীকৃত হবে।’

অতএব, ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ২০২৫ সালের নির্বাচনে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে উমামা ফাতেমার এই আবেদন শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থী সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়াই আগামী নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও আস্থার মান নির্ধারণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত