প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও গাজা পুনর্গঠনের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে যে হামাস নতুন করে অস্ত্রসজ্জিত হচ্ছে এবং তাদের সাময়িকভাবে সশস্ত্র থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি এই মন্তব্য করেন ইসরাইলে পৌঁছানোর আগে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।
ট্রাম্প বলেন, “হামাস এ ব্যাপারে খোলাখুলি কথা বলেছে এবং আমরা তাদের কিছু সময়ের জন্য অনুমোদন দিয়েছি। বুঝতে হবে, তারা সম্ভবত ৬০ হাজার মানুষকে হারিয়েছে—এটা এক বিশাল ক্ষতি।” তিনি যুক্তি দেন, এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের পর সংগঠনটি পুনর্গঠনের সুযোগ পাওয়াটাই বাস্তবতা।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তার এই অবস্থান ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির মধ্যে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হলো গাজা পুনর্গঠন ও বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। তার ভাষায়, “গাজা আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংসপ্রাপ্ত। মানুষের ফিরে আসার সময় অনেক খারাপ ঘটনা ঘটতে পারে, আমরা সেটি ঠেকাতে চাই।”
বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বা অস্ত্র ত্যাগের সময়সীমা একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতারসহ কয়েকটি দেশ সক্রিয় ভূমিকা রাখছে, তবে এখনো সমাধান আসেনি। কারও মতে, তাৎক্ষণিক নিরস্ত্রীকরণ শান্তি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে, আবার কেউ মনে করেন, হামাসের আত্মরক্ষার অধিকার পুরোপুরি অস্বীকার করা বাস্তব পরিস্থিতিতে সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য একদিকে হামাসকে কিছুটা রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয়, অন্যদিকে ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে আসন্ন গাজা শান্তি সম্মেলনে এই প্রশ্নটি আলোচনার কেন্দ্রে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের সফরের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবারও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। এখন প্রশ্ন একটাই—গাজায় দীর্ঘ যুদ্ধের পর এই ‘সাময়িক অনুমতি’ শান্তির পথ তৈরি করবে, নাকি আরও জটিলতার জন্ম দেবে।









