নির্বাচন অবশ্যই ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে, তা পিছানো কারোর পক্ষে সম্ভব নয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
নির্বাচন অবশ্যই ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে, তা পিছানো কারোর পক্ষে সম্ভব নয়

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আগামী নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত এবং এটি অবশ্যই ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, গণভোট সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা নেবে, সেই সিদ্ধান্তের পরও নির্বাচন পিছানো হবে না এবং এ বিষয়ে কোনো শক্তির প্রভাব পড়বে না।

শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত অনুষ্ঠানের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ শেষে এই মন্তব্য করেন শফিকুল আলম। তিনি জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে তাদের মত প্রকাশ করেছে, কিন্তু এটি কোনো হুমকি হিসেবে গণ্য করা হবে না। প্রধান উপদেষ্টা যেটিকে সর্বোত্তম বিবেচনা করবেন, সেটাই বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরো বলেন, আগামী ১৩ নভেম্বর আদালত শেখ হাসিনার বিচারের দিন ঘোষণা করবেন।

শফিকুল আলম চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেই সময়ে পুরুষ ও নারী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। বর্তমানেও নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে এবং সকল ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিত্ব দৃঢ়।

‘মাইন্ডব্রিজ ও নলেজ কম্পিটিশন ২০২৫’ নামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণদের জ্ঞান ও মেধা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। নোবিপ্রবি কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ফাউন্ডেশনের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম প্রমি অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল। বিশেষ অতিথি ছিলেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইসমাঈল হোসেন।

শফিকুল আলম বলেন, সরকার ও নির্বাচনের প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার জন্য প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ যেন বিশ্বাসযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি তরুণ প্রজন্মের দায়িত্বশীলতা, শিক্ষার উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি তরুণদের নানান প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে ধরা হয়। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিভাগে অংশগ্রহণ করে পুরস্কার অর্জন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষার প্রসার এবং জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নোবিপ্রবির এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও সমন্বয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা হয়েছে যাতে তারা দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

শফিকুল আলম বলেন, “ভোট ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের স্বার্থে সুষ্ঠু ও সময়মতো নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পিছানো কোনোভাবেই হবে না।” তিনি আশ্বস্ত করেন যে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

এ অনুষ্ঠানটি দেশের যুব সমাজকে প্রেরণা দিতে, গণতান্ত্রিক চেতনা বৃদ্ধি করতে এবং রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থী ও তরুণ অংশগ্রহণকারীরা উৎসাহের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদর্শন করেন।

শফিকুল আলমের বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের জনগণকে নিশ্চিত করা হয়েছে, ২০২৫ সালের নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। নির্বাচনের তারিখ ও প্রক্রিয়া কোনোভাবেই রাজনৈতিক চাপ বা হুমকির কারণে পরিবর্তিত হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com