আমরা গোপালগঞ্জের নাম বদলাতে আসিনি”— উত্তপ্ত সমাবেশে নাহিদ ইসলামের ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ১২৪ বার
আমরা গোপালগঞ্জের নাম বদলাতে আসিনি”— উত্তপ্ত সমাবেশে নাহিদ ইসলামের ঘোষণা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক জোরালো বার্তায় জানিয়েছেন—তাদের আন্দোলন গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন কিংবা আক্রমণের উদ্দেশ্যে নয়। বরং গণতন্ত্র ও ন্যায়ের লড়াইয়ে অবিচল থাকতে তাঁরা এখানে এসেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

বুধবার (১৬ জুলাই) গোপালগঞ্জ শহরের কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা গোপালগঞ্জের নাম বদলাতে আসিনি। তবে আমরা যদি ন্যায়বিচার না পাই, তাহলে আবার আসব, এবং নিজ হাতে মুজিববাদ মুক্ত করবো।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, চারদিক থেকে “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগানে মঞ্চ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

প্রায় পৌনে ২টার দিকে সমাবেশের মঞ্চে একে একে ওঠেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা—নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের সারজিস আলম, সাংগঠনিক নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ অনেকে। নেতারা বক্তব্যের শুরুতেই সকাল থেকে গোপালগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান এবং তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করেন।

এর আগে, সমাবেশস্থলকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোপালগঞ্জ শহর। পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চ তৈরি চলাকালীন সময়েই ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ সেখানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি। হামলায় ভাঙচুর করা হয় সাউন্ড সিস্টেম, চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। বেশ কয়েকজন এনসিপি কর্মী আহত হন বলেও জানা গেছে।

এছাড়া জেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে একটি পুলিশ টহল গাড়ি ভাঙচুর করে তাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একইসাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর গাড়িবহরেও হামলা চালানো হয়, যার ফলে প্রশাসনের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুরো শহরজুড়ে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপি নেতারা বলেন, ক্ষমতাসীনরা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতে ভয়ভীতি ও হামলা-ভাঙচুরের আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু তাতে তাঁদের আন্দোলন থেমে থাকবে না। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা পিছু হটার জন্য আসিনি। আমরা এসেছি জনগণের কথা বলার জন্য। হামলায় ভয় পেলে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা যায় না।”

গোপালগঞ্জে এমন ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অন্যতম বড় একটি অধ্যায়ের শুরু হলো। তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে—সংঘাত নয়, তারা চায় জবাবদিহিতা ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন উত্তেজনা, তেমনি রয়েছে কৌতূহল—জাতীয় রাজনীতিতে এই নবীন শক্তির এই ধারার প্রতিক্রিয়া কোথায় গিয়ে ঠেকে। এনসিপির এমন সাহসী অবস্থান আগামী দিনগুলোর রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি এখন সময়ই বলে দেবে। তবে এদিন গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ইতোমধ্যে জাতীয় পরিসরে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত