সর্বশেষ :
ইসরাইলের অকৃত্রিম মিত্র ভারত, ভ্যান্সের মন্তব্যে দ্বিমত নেতানিয়াহুর পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি শুরু: উত্তপ্ত বিচারিক অঙ্গন সৌরবিদ্যুতে গুরুত্ব, জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার ডিসেম্বরেই নতুন বই, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুটিংহীন অবসরে যেভাবে নিজেকে সজীব রাখেন অভিনেত্রী হিমি আমানত আনতে ৪ কোটি টাকার ঘুষ: ডুবছে কমার্স ব্যাংক ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত ভারত: ১০ জনের মৃত্যু, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রেমিকার ঘরে স্ত্রীকে খুন, নেপাল পালানো স্বামী গ্রেফতার পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল ব্রাজিলকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস লিখলেন আর্লিং হলান্ড

নৌ-শক্তি বাড়াতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় কিম জং উন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার
নৌ-শক্তি বাড়াতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় কিম জং উন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন দেশটির সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্রে তাদের সজ্জিত করার যে মহাপরিকল্পনা তিনি গ্রহণ করেছেন, তা এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, কিম জং উন সশরীরে উপস্থিত থেকে ৫০০০ টনের অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘ক্যাং কন’ থেকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধাস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন। গত ৩ জুলাই উপকূলীয় অঞ্চলে আয়োজিত এই সামরিক মহড়াটি ছিল উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘমেয়াদী সামরিক কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিম জং উন এই যুদ্ধের প্রস্তুতি তদারকি করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং নৌবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

এই মহড়ায় কেবল ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণই ছিল না, বরং আধুনিক নৌ-যুদ্ধের যাবতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতিও যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষায় যুদ্ধজাহাজটির প্রধান কামান ও স্বয়ংক্রিয় কামানের নিখুঁত লক্ষ্যভেদ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং শত্রুর অবস্থান শনাক্তকরণ প্রযুক্তির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। এই আধুনিক ডেস্ট্রয়ারটি উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীর জন্য এক বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ দেশটির সামরিক ভারসাম্যকে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বেশ উদ্বেগের কারণ করে তুলেছে। কিম জং উনের নির্দেশনায় আগামী দুই মাসের মধ্যেই এই যুদ্ধজাহাজটিকে সরাসরি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে বা ডিউটিতে মোতায়েন করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, যা বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার আবহ তৈরি করেছে।

‘ক্যাং কন’ ডেস্ট্রয়ারটির ইতিহাস বেশ নাটকীয়। এটি গত বছরের মে মাসে প্রথমবার উন্মোচন করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু চংজিন বন্দরে উদ্বোধনের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাহাজটি আংশিক উল্টে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ব্যর্থতায় কিম জং উন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তবে ওই ঘটনার পর থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে জাহাজটি মেরামত ও আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর চলতি বছরের জুন মাসে এটি পুনরায় পানিতে নামানো হয়। এই সফল মেরামত প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে কতটা মরিয়া। মেরামতের পর এটি এখন আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত হয়ে ফিরে এসেছে।

নৌবাহিনীকে পারমাণবিক শক্তিধর করার যে লক্ষ্য কিম জং উন স্থির করেছেন, তার পেছনে মূলত বিদ্যমান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পাশাপাশি নৌ-সীমানায় আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা কাজ করছে। এর আগে জুন মাসের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়া তাদের প্রথম ৫০০০ টনের ডেস্ট্রয়ার ‘চোয়ে হিয়ন’-কে নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। সেই অনুষ্ঠানেই কিম জং উন ঘোষণা করেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী এখন আর কেবল আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং আক্রমণাত্মক এবং প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা অর্জনের পথে হাঁটছে। তার এই নৌ-কৌশল কিম শাসনামলের সামরিক নীতিতে এক বিশাল পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকেরই ধারণা, উত্তর কোরিয়া এবং রাশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ওঠা গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এই ধরনের আধুনিক জাহাজ নির্মাণে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা যুগিয়েছে।

যদিও কিম জং উন তার নৌবাহিনীকে বিশ্বমানের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবুও অনেক পশ্চিমা ও আঞ্চলিক সামরিক বিশ্লেষক এই যুদ্ধজাহাজগুলোর প্রকৃত যুদ্ধকার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সাগরে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে কত দ্রুত এই জাহাজগুলো টিকে থাকতে পারবে, তা যুদ্ধের বাস্তব প্রেক্ষাপটে দেখার বিষয়। তবে এই সংশয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কিম জং উন তাঁর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা অটুট রেখেছেন। তিনি আগামী পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর অন্তত দুইটি করে ৫০০০ টনের নতুন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। কেবল ৫০০০ টনের ডেস্ট্রয়ারেই থেমে থাকছে না উত্তর কোরিয়া, বরং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা আরও বিস্তৃত করতে ১০ হাজার টনের একটি বিশাল এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার তৈরির কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

কিম জং উনের এই সামরিক আগ্রাসনের পেছনে যে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কাজ করছে, তা অত্যন্ত গভীর। একদিকে যেমন নিজস্ব শক্তির প্রদর্শন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশীয় শিল্পে যুদ্ধাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো—এই দুইয়ের সমন্বয়ে কিম তার শাসনব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে চাইছেন। এই ডেস্ট্রয়ারগুলো কেবল জলপথের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাকে আরও ভ্রাম্যমাণ এবং কার্যকর করার একটি মাধ্যম। সমুদ্রে বসেও যেন তারা যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, সেই সক্ষমতা অর্জনের প্রচেষ্টাই দেখা যাচ্ছে কিম জং উনের প্রতিটি পদক্ষেপে।

পরিশেষে বলা যায়, উত্তর কোরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে কিম জং উনের উপস্থিতিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনাটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সামরিক আধুনিকায়নের এই প্রক্রিয়া উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। সামনের দিনগুলোতে ১০ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার নির্মাণ এবং নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের এই মিশন কতটা সফল হয়, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। কিম জং উনের এই সামরিক মহড়া এটিই প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর লক্ষ্য অর্জনে যেকোনো ঝুঁকি নিতে এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি গ্রহণে বদ্ধপরিকর। তার নৌ-শক্তির এই উত্থান এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্যের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত