এবারও বড় রানের লক্ষ্য সিমন্সের

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ম্যাকাইয়ে সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় টেস্টে নামছে। কোচ ফিল সিমন্সের লক্ষ্য, ব্যাটিংয়ে বড় রান তুলে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখা এবং পাঁচ দিনের প্রতিটি সেশনে পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রিকেট খেলা।

ডারউইনে নয় উইকেটের জয়ের পর বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। ছোটখাটো চোট কিংবা প্রতিপক্ষের কন্ডিশন—কোনোটিই আপাতত ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তায় প্রভাব ফেলছে না। প্রথম টেস্টের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ম্যাকাইয়েও ভালো ক্রিকেট খেলতে চান কোচ সিমন্স।

ম্যাকাইয়ে প্রথম অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সিমন্স বলেন, ডারউইনের জয়ের পর দলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তবে টেস্ট ক্রিকেটে শুধু আত্মবিশ্বাস যথেষ্ট নয়। পাঁচ দিন ধরে ১৫টি সেশনে ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে হয়। তাই আগের ম্যাচের আবেগ পেছনে ফেলে দ্বিতীয় টেস্টের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ।

সিমন্সের সতর্কবার্তা, অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তাই সিরিজ জিততে হলে বাংলাদেশকে প্রথম টেস্টের মতোই ভালো, বরং কিছু ক্ষেত্রে আরও উন্নত ক্রিকেট খেলতে হবে।

প্রথম টেস্টের আগে পেস ও বাউন্সি কন্ডিশন নিয়ে বাংলাদেশের শঙ্কা ছিল। কিন্তু হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং সেই শঙ্কা অনেকটাই দূর করে দেয়। তিনি প্রথম টেস্টের এক ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন। মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্য এবং তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিও জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ম্যাকাইয়ের কন্ডিশনও আলাদা। প্রবল বাতাসের পাশাপাশি শক্ত ও ঘাসযুক্ত উইকেট পেসারদের সহায়তা করতে পারে। তবে সিমন্স এ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত নন। তাঁর মতে, ডারউইনেও তীব্র বাতাস ছিল এবং এখানেও দুই দলকে একই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এ কারণেই ম্যাচের কয়েক দিন আগে ম্যাকাইয়ে এসে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ।

উইকেট সম্পর্কে সিমন্সের মূল্যায়নও ইতিবাচক। তাঁর চোখে এটি টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আদর্শ উইকেট—শক্ত পিচের ওপর ঘাস রয়েছে। এমন কন্ডিশনে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ কার্যকর হতে পারে।

তবে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ব্যাটিং। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। তানজিদের সেঞ্চুরির সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মিরাজের অর্ধশতক এবং লোয়ার অর্ডারের কার্যকর অবদানে বড় সংগ্রহ গড়ে ওঠে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ম্যাকাইয়েও বড় স্কোরের দিকে তাকিয়ে সিমন্স।

তিনি মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিটি সেশন গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিংয়ে দীর্ঘ সময় ভালো করতে পারলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা সম্ভব। তাই ব্যাটিং ইউনিটকে বড় রান করার লক্ষ্যেই প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ডারউইনের আগে অবশ্য বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার, এরপর অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও একই ব্যবধানে পরাজয়—সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের কেউ কেউ দুই দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ হওয়ার পূর্বাভাসও দিয়েছিলেন।

কিন্তু মাঠে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। পেট কামিন্সদের দলকে ৯ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ শুধু প্রথম টেস্টেই জয় পায়নি, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক সাফল্যও অর্জন করে। বাংলাদেশের এমন পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিকদের কাছেও বিস্ময়ের বিষয় হয়ে উঠেছে।

সিমন্স অবশ্য এই পরিবর্তনকে কোনো রহস্য হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ব্যাখ্যা, প্রস্তুতি ম্যাচে পরাজয়ের পরও খেলোয়াড়েরা নিজেদের প্রক্রিয়া থেকে সরে যাননি। অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন এবং ফল পেয়েছেন।

এবার সিরিজের ফল নির্ধারণ হবে ম্যাকাইয়ে। বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় চাপ অস্ট্রেলিয়ার ওপর বেশি। স্বাগতিকদের সিরিজ বাঁচাতে হলে এই ম্যাচে জিততেই হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জিতলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায় লিখবে।

এই অবস্থায় বাংলাদেশের প্রতি প্রত্যাশাও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সাফল্যের কারণে সমর্থকদের প্রত্যাশা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। সিমন্সও তা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি আবেগের চেয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে দলকে মূল্যায়ন করতে চান।

তাঁর পরিকল্পনা পরিষ্কার—প্রতিটি সেশন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ব্যাটিংয়ে বড় রান করা এবং অস্ট্রেলিয়াকে দীর্ঘ সময় চাপের মধ্যে রাখা। ডারউইনের জয় যদি বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ হয়ে থাকে, ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্ট হতে পারে সেই আত্মবিশ্বাসের আরও বড় পরীক্ষা।

সিরিজ জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাই সিমন্সের মূল মন্ত্র একটাই—বড় রান, ধারাবাহিক ক্রিকেট এবং পুরো পাঁচ দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী লড়াই।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত