কুলাউড়ায় এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৫

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার
কুলাউড়ায় এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দলটির জেলা পর্যায়ের এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতদের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে কুলাউড়া শহরের উত্তর বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দলীয় আধিপত্য বিস্তার এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। প্রথমে কথাকাটাকাটি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হলেও একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তর বাজার এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও তৈরি হয়। পরে কুলাউড়া থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া। অন্যরা হলেন এনসিপি নেতা তোফায়েল আহমদ, সাহেল আহমদ, ফাহিম আহমদ জনি ও সোহাগ মিয়া। সংঘর্ষে উসকানি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় আহত এনসিপি নেতা ও দলটির মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তামিম আহমদ বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। মামলার অভিযোগে দলীয় পদ পাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে অর্থ দাবি এবং পরে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তামিম আহমদের অভিযোগ, এনসিপির পদ দেওয়ার বিষয়ে এহসান জাকারিয়াসহ মামলার আসামিরা তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। পরে মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখা যওয়ার পথে কুলাউড়া শহরের উত্তর বাজার এলাকায় তাঁদের ওপর হামলা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে মামলায় করা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

ঘটনার বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে দলীয়ভাবে তদন্ত করা হবে। দলীয় পর্যায়ে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানিয়েছেন, পুলিশের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার পাঁচজনকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি করছে।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন মৌলভীবাজারে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছিল। এর আগে দলটির মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয় কমিটিতে এহসান জাকারিয়াসহ একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে। একই কমিটিতে তামিম আহমদের নামও সদস্য হিসেবে ছিল। ফলে একই সাংগঠনিক পরিসরের নেতাদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি দলীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধ অনেক সময় দ্রুত মাঠের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। কুলাউড়ার ঘটনাতেও প্রাথমিকভাবে দলীয় পদ, নেতৃত্বের প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার কথা জানা গেছে। তবে সংঘর্ষের পেছনে প্রকৃত কারণ কী ছিল, কারা প্রথম হামলা করেছে এবং ঘটনার সময় প্রত্যেক পক্ষের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশেষ করে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা দলীয় শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের সমন্বয় এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির সক্ষমতার ওপর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা সংঘর্ষে না গিয়ে সাংগঠনিক ও আলোচনামূলক প্রক্রিয়ায় সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।

এদিকে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এখন নজর রয়েছে। পুলিশ গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে মামলায় নাম থাকা অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

কুলাউড়ার উত্তর বাজারে সংঘর্ষের পর বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। দলীয় তদন্ত ও পুলিশের তদন্ত—দুই প্রক্রিয়ায় ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ার পরই পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা এবং রাজনৈতিক বিরোধ যেন আর কোনো সংঘাতে না গড়ায়, সে বিষয়েই এখন সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত