প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
কক্সবাজারের উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বন বিভাগ। সাম্প্রতিক দুই দিনে পৃথক অভিযানে মোট ১৮টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় চালানো অভিযানে বন বিভাগের জায়গা দখল করে নির্মিত ১৪টি দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়। এর আগের দিন, রোববার, পালংখালী ইউনিয়নের মুছারখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের ভেতরে বনভূমির জমি দখল করে দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছিল। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, তেমনি বনভূমির অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়েছিল। সম্প্রতি চালানো উচ্ছেদ অভিযানের ফলে দখলমুক্ত হয়েছে ওইসব জায়গা।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দখলদারিত্ব কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। থাইংখালী বিট কর্মকর্তা বিকাশ দাশ জানান, সরকারি বনভূমি বাঁচাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে উখিয়া রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, বনভূমির জমি দখল করে কোনো অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বনভূমির জায়গা কেউ দখল করে থাকতে পারবে না, এ বিষয়ে বন বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দোছড়ি বিট কর্মকর্তা এমদাদুল হক রনি এবং অন্যান্য বনকর্মীরা। নিরাপত্তার জন্য সহযোগিতা করেন এপিবিএন পুলিশ সদস্যরা এবং ক্যাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
উখিয়ার স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, বনভূমি দখল ও ধ্বংস শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্য, পানি ও মাটির ভারসাম্যকেও বিপর্যস্ত করে তোলে। তাই সরকারের এমন অভিযানকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তারা মনে করছেন, শুধু উচ্ছেদ নয়, একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ বনভূমি দখল করতে না পারে।
বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উখিয়া এবং আশপাশের অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান চলবে এবং পর্যায়ক্রমে দখলকৃত অন্যান্য জায়গাও মুক্ত করা হবে। সংরক্ষিত বনভূমির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।