এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন শুরু আজ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৭ বার
এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন শুরু আজ

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর আজ থেকে শুরু হয়েছে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন কার্যক্রম। যারা ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট বা প্রত্যাশিত নম্বর পাননি, তারা আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) থেকে আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে, এবং প্রতি বিষয়ে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুধুমাত্র ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। কোনো শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো দপ্তরে সরাসরি আবেদন করা যাবে না।

শিক্ষার্থীদের বোর্ড নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নাম দিয়ে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর পুনর্নিরীক্ষণ করতে চাওয়া বিষয়গুলো নির্বাচন করতে হবে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য ফি দিতে হবে ১৫০ টাকা করে, তবে দ্বিপত্র বিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ, একটি বিষয়ে দুইটি পত্র থাকলে মোট ৩০০ টাকা দিতে হবে।

ফি পরিশোধ করা যাবে বিকাশ, নগদ, সোনালী সেবা, ডিবিবিএল রকেট অথবা টেলিটক মোবাইল সিমের মাধ্যমে। ফি পরিশোধের পর আবেদনকারীকে একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে, যেখানে পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএস পাঠানো হবে। আবেদনের আগে ও পরে প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত নির্দেশনা ওয়েবসাইটের ‘হেল্প’ বাটনে পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ফি পরিশোধের আগে শিক্ষার্থীরা চাইলে আবেদন সংশোধন বা মুছে ফেলতে পারবেন। কিন্তু একবার ফি পরিশোধের পর আবেদন বাতিল বা সংশোধন করার কোনো সুযোগ থাকবে না, এবং কোনো কারণেই ফি ফেরত দেওয়া হবে না। এই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে ফলাফল জানতে পারেন, পাশাপাশি মোবাইল ফোনে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা সম্ভব হয়েছে। ফল প্রকাশের দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রত্যাশিত ফল পেয়েছেন, আবার অনেকে কম নম্বর পেয়ে হতাশ হয়েছেন। ফলে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া তাদের জন্য নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে।

চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশে মোট ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয় লাখো শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সর্বাধিক পরীক্ষার্থী ছিল ঢাকা বোর্ডে— ২ লাখ ৯১ হাজার ২৪১ জন। রাজশাহী বোর্ডে অংশ নেয় ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৪২ জন, কুমিল্লায় ১ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩১৭ জন, চট্টগ্রামে ১ লাখ ৩৫ জন, বরিশালে ৬১ হাজার ২৫ জন, সিলেটে ৬৯ হাজার ৬৮৩ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ৩ হাজার ৮৩২ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৮ হাজার ২৭৩ জন।

এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮৬ হাজার ১০২ জন শিক্ষার্থী এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার কিছুটা কমলেও মেধার বিচারে ফলাফল মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে বিজ্ঞান বিভাগে তুলনামূলকভাবে বেশি শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত গ্রেড অর্জন করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

ফল প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করছেন, তাদের উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। কেউ কেউ মনে করছেন, মূল্যায়নের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা মানবিক ভুলের কারণে তারা প্রাপ্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এসব কারণেই প্রতি বছরই পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন সংখ্যা বেড়ে যায়, এবং এবছরও এর ব্যতিক্রম হবে না বলেই ধারণা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিটি বছরই পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন আসে হাজার হাজার। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া। আমাদের বোর্ড সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে ফল পুনর্মূল্যায়ন করে থাকে।”

শিক্ষাবিদরাও মনে করেন, পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়। বিশেষ করে যারা সামান্য নম্বরের কারণে গ্রেড কম পেয়েছে, তাদের জন্য এই প্রক্রিয়াটি আশাব্যঞ্জক। তবে তারা এটিও বলেছেন, মূল পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সময় আরও কঠোর মানদণ্ড ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে পুনর্নিরীক্ষণের প্রয়োজন অনেক কমে যেত।

এদিকে অনেক অভিভাবক মনে করেন, অনলাইন প্রক্রিয়া চালু থাকায় আবেদন করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। আগে যেখানে সরাসরি বোর্ডে যেতে হতো, এখন ঘরে বসেই আবেদন ও ফি পরিশোধ করা যায়। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও সমানভাবে এই সুযোগ পাচ্ছেন।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ২৩ অক্টোবর আবেদন শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের তারিখ পরে ওয়েবসাইট ও গণমাধ্যমে জানানো হবে।

সবশেষে বলা যায়, এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুধু একটি প্রক্রিয়া নয়— এটি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারেরও একটি সুযোগ। অনেক সময় একটি বা দুটি নম্বরই বদলে দিতে পারে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা। তাই এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে জেগেছে আশা, আবারও হয়তো পরিবর্তন আসবে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত