প্রতিবন্ধকতা জয় করে আলো ছড়ালো তানিশা: বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়েও এসএসসিতে জিপিএ-৫

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৭০ বার
প্রতিবন্ধকতা জয় করে আলো ছড়ালো তানিশা: বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়েও এসএসসিতে জিপিএ-৫

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জীবনে যদি ইচ্ছা ও অধ্যবসায় থাকে, তবে কোনো প্রতিবন্ধকতাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না—এই চিরন্তন সত্য আবারও প্রমাণ করলো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার এক বিস্ময়কর কিশোরী, জাইমা জারনাস তানিশা। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়েও তানিশা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

তানিশা ঘাটাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের কমনা পাড়া গ্রামের প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন ও শিক্ষক মাফুজুন নাহার বিউটির একমাত্র কন্যা। তার মা স্থানীয় কমলা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হলেও শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনোদিন তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তার এই অদম্য মনোবল এবং অক্লান্ত পরিশ্রম আজ তাকে এনে দিয়েছে অসাধারণ এক সাফল্য।

তানিশা ঘাটাইলের সালেহা ইউসুফজাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রী। এর আগে সে স্থানীয় ‘প্রয়াস’ নামে একটি অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেছে। এরপর মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত হয়ে সালেহা ইউসুফজাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং সবার বিস্ময় জাগিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করে।

তার মা বলেন, “আমার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত আগ্রহী ছিল। আমরা কখনও ভাবিনি সে জিপিএ-৫ পাবে। কিন্তু ওর পরিশ্রম আর আল্লাহর রহমতে সে তা করে দেখিয়েছে। মেয়ে ইশারায় আমাদের সব কিছু বুঝতে পারে। ওর ইচ্ছা উচ্চশিক্ষা অর্জন করা—আমি চাই এই স্বপ্ন পূরণ হোক।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাসুদেব পাল বলেন, “তানিশা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়েও সে শ্রেণিকক্ষে দারুণভাবে নিজেকে উপস্থাপন করত। তার মধ্যে যে মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাস দেখেছি, তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা যায় না। আমরা বিশ্বাস করি সে ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু অর্জন করবে।”

প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান তানিশার সাফল্যকে বিদ্যালয়ের গর্ব বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “তার এই অর্জন শুধু আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য নয়, পুরো উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়। একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হিসেবে তানিশা যে মানসিক দৃঢ়তা ও অধ্যবসায় দেখিয়েছে, তা অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”

তানিশার এমন সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী সবাই আনন্দিত ও গর্বিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তানিশাকে নিয়ে চলছে প্রশংসার বন্যা। তাকে ঘিরে ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখছে স্থানীয় শিক্ষা মহল। অনেকে বলছেন, প্রতিবন্ধকতা জয় করে এগিয়ে যাওয়া এই কিশোরীর গল্প দেশের হাজারো তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

এই কীর্তিগাঁথা কেবল একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প নয়, বরং এক প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে চলার দুর্বার আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। সমাজের সকল স্তরে যদি এমন প্রতিভার পাশে দাঁড়ানো যায়, তবে প্রতিবন্ধী বলয় থেকে বেরিয়ে অসংখ্য তানিশা আগামী দিনে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত