হাসিনার প্রত্যর্পণ শর্তে তারেকের ভারত সফর, ক্ষুব্ধ সিক্রি

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে তিনি ‘অত্যন্ত রূঢ়’ ও ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিক্রি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ চূড়ান্ত করতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে এবং সফরের প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে।

সিক্রি বলেন, বাংলাদেশ সরকার যদি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবির সঙ্গে যুক্ত করে থাকে, তাহলে সেটি অত্যন্ত বিস্ময়কর। তার মতে, সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয়ে এ ধরনের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা দিতে পারে।

ভারতের সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, তারেক রহমান ভারত সফরে আসছেন না—এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা ভারতীয় পক্ষ এখনো শোনেনি। বরং সফরের তারিখ ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে দুই দফা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রথম আমন্ত্রণটি ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য।

সিক্রির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মোদি তাকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, ভারত হতে পারে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সেই আমন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এরপর বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য ভারত থেকে তারেক রহমানকে দ্বিতীয়বার আমন্ত্রণ জানানো হয়। সিক্রির দাবি, সেই আমন্ত্রণেরও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও আপত্তি জানান সিক্রি। তার মতে, প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং এটি রাজনৈতিক সফরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা কূটনৈতিকভাবে যথাযথ নয়।

তিনি বলেন, প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় বছর লেগে যেতে পারে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।

সিক্রির বক্তব্য, তারেক রহমান যদি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতে সফর না করার অবস্থান নেন, তাহলে সেটি কার্যত কয়েক বছরের জন্য সফর স্থগিত করার সমান হতে পারে।

তার মতে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর এবং প্রত্যর্পণের মতো আইনি বিষয়কে আলাদা প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম রোববার (১৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে এখনো সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সফরের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।

৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি আবারও জোরালোভাবে তোলা হয়।

বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনার পাশাপাশি শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।

এদিকে নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারতের সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছে। সেখানে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন—এই তিনটি বিষয় এখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত