জাতিসংঘের প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখলে নিল ইসরায়েল

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর একটি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখলে নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার সকালে অন্তত চারটি সাঁজোয়া যান ও ৫০ জনের বেশি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়ে কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রবেশ করেন ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনা সদস্যরা।

অভিযানের পর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ইউএনআরডব্লিউএ এখন আমাদের দখলে।’

কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি ইউএনআরডব্লিউএ-এর অন্যতম পুরোনো কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটি একটি সুরক্ষিত জাতিসংঘ স্থাপনা। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রবেশ ও দখলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউএনআরডব্লিউএ।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি পূর্ব জেরুজালেমে তাদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ অন্যান্য জাতিসংঘ স্থাপনার অখণ্ডতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউএনআরডব্লিউএ-এর ওপর ইসরায়েলের চাপ ও বিধিনিষেধের মধ্যেই সর্বশেষ এই অভিযান চালানো হলো। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এদিকে গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধে অভিভাবকদের সতর্ক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পর গাজার স্থানীয় কমিটিগুলো এই নির্দেশনা জারি করেছে।

এক বিবৃতিতে গাজার কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিশুদের শৈশব সীমিত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং সম্ভাব্য হামলা থেকে শিশুদের জীবন রক্ষা করতেই ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের দিকে ঘুড়ি, বেলুন বা ড্রোন পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের হত্যার লক্ষ্যবস্তু করা হবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকা থেকে ঘুড়ি পাঠানো হচ্ছে, সেসব এলাকা খালি করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও একই ধরনের সতর্কতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

গাজা কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা এমন এক সময়ে এলো, যখন উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। শিশুদের খেলাধুলার মতো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ায় পরিস্থিতির মানবিক দিকটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রবেশের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার দিকেও নজর রয়েছে। ইউএনআরডব্লিউএ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জাতিসংঘের স্থাপনার সুরক্ষা ও অখণ্ডতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত