সর্বশেষ :

জুলাই-আগস্টে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি: খোকন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৮ বার

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দলটির নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নরসিংদীতে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত তাহমিদ ভূঁইয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

খায়রুল কবির খোকন বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরা। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান বিরোধী দলগুলোর সামনে কার্যকর কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নেই। একই বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি এবং দলটির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের নির্যাতন, মামলা ও রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হয়েছেন।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্দোলনের মূল চেতনা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর দাবি, ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনের বিষয়েও বক্তব্য দেন খায়রুল কবির খোকন। তিনি বলেন, আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাঁদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে তাঁদের প্রতি রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল এবং দেশের মানুষের স্থায়ী দায়বদ্ধতা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নরসিংদীর প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত তাহমিদ ভূঁইয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় স্থানীয় বিএনপির নেতারা শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় বক্তারা আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সহ-সভাপতি ভিপি জলিল, গোলাম কবির কামাল, খবিরুল ইসলাম বাবুল, আকবর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান ও মূল্যায়নে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করে আসছে। ফলে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, পাল্টা দাবি এবং বক্তব্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ইতিহাস, গণআন্দোলন কিংবা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার সময় তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল অবস্থান গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে।

অন্যদিকে, শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দেন পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, যেকোনো জাতীয় সংকট বা গণআন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

খায়রুল কবির খোকনের বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের মূল্যায়ন, শহীদদের অবদান, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে আগামী দিনেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত