প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাওয়ার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। বিএনপির এই সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, তাঁর এলাকায় বর্তমানে কোনো ধরনের সমস্যা নেই এবং সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে ফখর উদ্দিন আহমেদের কাছে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। এতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্বেও রয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিশের বিষয়ে তিনি বলেন, দল যদি সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা চায়, তাহলে তিনি অবশ্যই তা দেবেন। একই সঙ্গে দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমার এলাকায় কোনো সমস্যা নেই, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। গত সাড়ে চার থেকে পাঁচ মাসে যদি দখল বা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটত, তাহলে তা অবশ্যই গণমাধ্যমের নজরে আসত।”
বিএনপির নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এর আগে ফখর উদ্দিন আহমেদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তিনি নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আবেদন করলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে বিএনপির অভিযোগ, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পরও তিনি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা আবারও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়েই এবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ভালুকা এলাকায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল ফখর উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। তখন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। যদিও ওই সময়ও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
বর্তমান শোকজের বিষয়ে তিনি বলেন, কারখানা দখলের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তাঁর দাবি, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জটলা হতে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কোনো মালিকপক্ষের অনুমতি ছাড়া কারও পক্ষে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি কারখানা থেকে কোনো পণ্য বের করতে হলে নির্ধারিত নিয়ম, গেটপাস এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। তাই জোর করে কারখানা দখল বা পণ্য নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ফখর উদ্দিন আহমেদ জানান, কয়েক দিন আগে দুটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁর কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের দলের দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ করে দেন বলেও জানান তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বিএনপির দপ্তরের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
শোকজ নোটিশের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেবেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি হাতে পাননি বলেও জানান তিনি। তাঁর ধারণা ছিল, আগের আলোচনার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কোনো সংসদ সদস্যকে শোকজ করা হলে তা দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
ভালুকা শিল্পাঞ্চল হিসেবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি। এখানে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে এ অঞ্চলের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।
তবে ফখর উদ্দিন আহমেদ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখন তাঁর দেওয়া লিখিত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে দলীয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।