প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় আয়োজিত একটি জুলাই প্রদর্শনী অনুষ্ঠান থেকে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমানের মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরতে বটতলা এলাকায় ওই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন ব্যারিস্টার আরমান। এ সময় ভিড়ের মধ্যে তাঁর হাত থেকে মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে ব্যারিস্টার আরমান শাহবাগ থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং ফোন উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি জানান, জুলাই প্রদর্শনীর অনুষ্ঠান চলাকালে ব্যারিস্টার আরমানের মোবাইল ফোনটি চুরি হয়। ঘটনার পর তিনি ব্যারিস্টার আরমানের সঙ্গে শাহবাগ থানায় যান এবং সেখানে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনী চলাকালে বটতলা এলাকায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কেউ মোবাইল ফোনটি নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বর্তমানে বিভিন্ন বড় আয়োজন ও জনসমাগমস্থলে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র চুরির ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত অভিযোগ দায়ের এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করলে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সহজ হয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন শনাক্ত ও উদ্ধারের সুযোগ থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিকেও সামনে এনেছে। বড় ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সম্পদের সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ব্যারিস্টার আরমানের মোবাইল চুরির ঘটনায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।