প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্মান বয়ে এনেছেন তরুণ সংবাদ উপস্থাপক, শিক্ষক ও মডেল জোবায়ের হক ফাহিম। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল লিডারশিপ সামিট-২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি অর্জন করেছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘সাইলেন্ট স্ট্রেংথ অ্যাওয়ার্ড’। নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় মালয়েশিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (এপিইউ)-এ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতৃত্ব, গবেষক, উদ্ভাবক এবং পরিবর্তনকামী ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলা, নেতৃত্ব বিকাশ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের ধারণা ও প্রকল্প উপস্থাপন করেন।
জোবায়ের হক ফাহিম বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে অংশ নিয়ে নিজের উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট পিওরস্টেপ’ (Project PureStep) উপস্থাপন করেন। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য শিশুদের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং সচেতনতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরি করা।
সম্মেলনের ‘প্রত্যাশিত প্রভাব ও সমাপনী’ শীর্ষক অধিবেশনে নিজ দলের ষষ্ঠ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জোবায়ের। সেখানে তিনি প্রকল্পটির স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং সমাজে এর সম্ভাব্য অবদান তুলে ধরেন। তাঁর উপস্থাপনায় শিশু স্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
জোবায়েরের উপস্থাপিত প্রকল্পটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এর মধ্যে রয়েছে এসডিজি-৩ অর্থাৎ সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, এসডিজি-৪ অর্থাৎ মানসম্মত শিক্ষা এবং এসডিজি-১৭ অর্থাৎ লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব। এসব ক্ষেত্রে তাঁর চিন্তাধারা, উপস্থাপনার দক্ষতা এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা বিচারকদের প্রশংসা অর্জন করে।
গ্লোবাল লিডারশিপ সামিট-২০২৬-এ অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বের সক্ষমতা, বিশ্লেষণী চিন্তা, উপস্থাপনার মান, উদ্ভাবনী ধারণা এবং বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা মূল্যায়ন করেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকরা। বিচারক প্যানেলে ছিলেন মালয়েশিয়ার অধ্যাপক ফারাহ হানিফ, ভারতের ড. সারভিন্দার কৌর সান্ধু, আলবেনিয়ার অধ্যাপক ফাতমির শেহু এবং বাংলাদেশের ড. নাজমুস সায়াদাত।
বিচারকদের মূল্যায়নে জোবায়ের হক ফাহিম নেতৃত্বে নীরব কিন্তু কার্যকর অবদান, গঠনমূলক অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মানের উপস্থাপনার জন্য ‘সাইলেন্ট স্ট্রেংথ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অংশগ্রহণ সনদও লাভ করেন, যা তাঁর বৈশ্বিক নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং সংগ্রামের গল্প। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ললাটি গ্রামের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা জোবায়ের হক ফাহিম ছোটবেলা থেকেই নিজের অবস্থান তৈরি করতে সংগ্রাম করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নবম শ্রেণি থেকেই পরিবারের দায়িত্ব পালনে ভূমিকা রাখেন তিনি।
কর্মজীবনের শুরু হয় শিক্ষকতা দিয়ে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছেন তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজের প্রতিভা ও আগ্রহের জায়গাগুলোকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে গণমাধ্যম ও ফ্যাশন জগতেও পরিচিতি অর্জন করেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিশ্বরঙের মডেল এবং কাজী টিভির সংবাদ উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
জোবায়ের হক ফাহিমের পথচলা দেখায়, প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়েও অধ্যবসায়, দক্ষতা এবং ইতিবাচক চিন্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভাবনা ও সক্ষমতারও একটি প্রতিচ্ছবি।
জোবায়ের জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ‘Power of Wonder Woman’ প্ল্যাটফর্ম। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন ধাপে পাওয়া সহযোগিতা তাঁর পথচলাকে আরও সহজ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে তরুণ নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য সংকট, শিক্ষা বৈষম্য এবং সামাজিক উন্নয়নের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্লোবাল লিডারশিপ সামিটের মতো আয়োজনগুলো তরুণদের নিজেদের ধারণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছেন। শুধু পেশাগত দক্ষতা নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও এখন বৈশ্বিক পর্যায়ে মূল্যায়িত হচ্ছে।
জোবায়ের হক ফাহিমের এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে। তাঁর পথচলা প্রমাণ করে, সীমিত সুযোগ থেকেও আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব।
ভবিষ্যতে তাঁর মতো আরও তরুণ যদি শিক্ষা, উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং মানবকল্যাণমূলক কাজে নিজেদের যুক্ত করেন, তাহলে বৈশ্বিক উন্নয়নেও বাংলাদেশের অবদান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।