সর্বশেষ :

ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কায় ৮ নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব অব্যাহত থাকায় ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের আটটি অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (১৯ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হলে নৌযান চলাচলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নৌযানের চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছোট নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং যাত্রীবাহী নৌকাগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে চলাচল করতে হয়। ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সময় নদীতে অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য প্রকাশিত সারাদেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের অনেক স্থানেও বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকা, পাহাড়ি অঞ্চল এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় স্থানীয়ভাবে দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, অতি ভারী বর্ষণের সময় পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়সংলগ্ন বসতিগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও এ পূর্বাভাসে নির্দিষ্টভাবে ভূমিধসের সতর্কতা উল্লেখ করা হয়নি, তবুও ভারী বর্ষণের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান বর্ষাকালে এই বৃষ্টিপাত আমন ধানের জন্য অনেক ক্ষেত্রে উপকারী হলেও অতিবৃষ্টি ফসলের ক্ষতির কারণ হতে পারে। জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে চারা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে সবজি চাষ, পুকুরের মাছ এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি নিষ্কাশন ও জমির পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নগরাঞ্চলেও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানে স্বল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং দৈনন্দিন কাজে বাইরে বের হওয়া নাগরিকদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বজ্রপাতের ঝুঁকিও এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা খোলা মাঠ, নদী, জলাশয় এবং উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। ফলে কয়েক দিনের তুলনায় আবহাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসতে পারে। তবে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অনেক এলাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি পুরোপুরি কমবে না বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, জেলে এবং সাধারণ মানুষকে নিয়মিত আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিন অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চললে সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে নতুন সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত