সর্বশেষ :

ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান পেল ইংল্যান্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৮ বার

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এক গোল উৎসবের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভরা নাটকীয় লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে আসরের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা অবস্থান অর্জন করেছে ইংল্যান্ড। একই সঙ্গে ম্যাচের নায়ক হয়েছেন বুকায়ো সাকা, যিনি দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে হারের পর দুই দলই একাদশে বড় পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে। উভয় দল সাতটি করে পরিবর্তন করে খেলতে নামে। তবে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ইংলিশরা।

প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে রাখে ইংল্যান্ড। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত আক্রমণ এবং কার্যকর ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটেই চার গোল করে বড় ব্যবধান তৈরি করে ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ডেকলান রাইস, এজরি কনসা এবং বুকায়ো সাকা। সাকা করেন জোড়া গোল। ফলে বিরতিতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বিপরীতে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যায় ছন্দহীনতা ও রক্ষণভাগে বড় দুর্বলতা।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামে ফ্রান্স। নিজের দায়িত্বের শেষ ম্যাচে দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন কোচ দিদিয়ের দেশঁ। বিরতির পর একসঙ্গে চারজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন তিনি। বদলি হিসেবে মাঠে নামেন উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা।

বিরতির মাত্র তিন মিনিট পরই ফ্রান্স ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। মাইকেল অলিসের দুর্দান্ত পাস থেকে কিলিয়ান এমবাপে এক স্পর্শে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান কমান। গোলটি ফরাসিদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে এবং ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়।

এরপর মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে আবারও গোল করে ফ্রান্স। এবার এমবাপের নিখুঁত পাস কাজে লাগিয়ে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড তখন কিছুটা চাপে পড়ে যায়।

তবে ফ্রান্সের আক্রমণের ধার আরও বাড়তে থাকে। ম্যাচের ৬০ মিনিটের পর নিজের অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর দশম গোল। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে পুরুষদের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন ফরাসি এই তারকা।

এমবাপের এই গোল শুধু ম্যাচের উত্তেজনাই বাড়ায়নি, বরং ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও স্মরণীয় হয়ে থাকে। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর ধারাবাহিক গোল করার ক্ষমতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তবে দলকে সমতায় ফেরানোর জন্য ফ্রান্স আরও একটি গোলের প্রয়োজন ছিল।

মাইকেল অলিসে এই ম্যাচে নিজেও একটি বিশেষ রেকর্ড গড়েন। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাতটি অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়েন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের দখলে। তবে ম্যাচে সমতাসূচক গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি অলিসে। কাছ থেকে নেওয়া তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

এরপর ম্যাচের শেষ ভাগে আবারও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ইংল্যান্ড। দ্রুতগতির আক্রমণে ফ্রান্সের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে তারা। ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে যাওয়া জেড স্পেন্সকে ফাউল করলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যাটট্রিক করা চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন তিনি।

তবে ম্যাচের নাটক তখনো শেষ হয়নি। ফ্রান্স হাল ছাড়েনি। উসমান দেম্বেলে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে আরও একটি গোল করে ব্যবধান কমান। ৫-৪ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে আবারও উত্তেজনা ফিরে আসে।

কিন্তু শেষ হাসি হাসে ইংল্যান্ডই। যোগ করা সময়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামা জুড বেলিংহ্যাম ফ্রান্সের রক্ষণ ভেঙে কাছ থেকে গোল করে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন। তাঁর গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬-৪।

এই জয় ইংল্যান্ডের জন্য শুধু তৃতীয় স্থান অর্জনের সাফল্য নয়, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ম্যাচের অংশ হয়ে থাকবে। ১০ গোলের এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

অন্যদিকে ফ্রান্সের জন্য শেষটা হতাশার হলেও ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় উজ্জ্বল ছিলেন। এমবাপের রেকর্ড, অলিসের অ্যাসিস্ট এবং তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা অবস্থান নিশ্চিত করেছে। যদিও ফাইনালের ট্রফি তাদের হাতে ওঠেনি, তবে তৃতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে স্মরণীয় এক জয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত