সর্বশেষ :

গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে কঠিন সমীকরণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা লড়াই। তবে দলগত এই মহারণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নিয়েও তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। সেটি হলো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া গোল্ডেন বুট। সেই দৌড়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সামনে রয়েছে কঠিন সমীকরণ। শিরোপা জয়ের স্বপ্নের পাশাপাশি তাঁকে পেরোতে হবে ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের গোলসংখ্যাকেও।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬–৪ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে ফ্রান্স। তবে ম্যাচটিতে জোড়া গোল করে ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। এই দুই গোলের মাধ্যমে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০। পাশাপাশি তিনি করেছেন ৪টি অ্যাসিস্ট। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আপাতত শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।

অন্যদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে লিওনেল মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ এমবাপের সমান গোলসংখ্যায় পৌঁছাতে হলে স্পেনের বিপক্ষে অন্তত জোড়া গোল করতে হবে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। তবে সমীকরণ এতটা সহজ নয়। কারণ ফিফার গোল্ডেন বুট নির্ধারণের নিয়মে শুধু গোলসংখ্যাই শেষ কথা নয়।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে বিবেচনা করা হয় মোট গোলসংখ্যা। একাধিক খেলোয়াড়ের গোল সমান হলে দেখা হয় অ্যাসিস্ট। অ্যাসিস্টও সমান হলে যিনি কম সময় মাঠে খেলেছেন, তিনিই গোল্ডেন বুট জিতে নেন। অর্থাৎ দক্ষতা ও কার্যকারিতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফাইনালের আগে পরিসংখ্যান বলছে, কিলিয়ান এমবাপে ৭৬৪ মিনিট খেলেছেন। তাঁর গোল ১০ এবং অ্যাসিস্ট ৪। লিওনেল মেসি খেলেছেন ৭১২ মিনিট। তাঁর গোল ৮ এবং অ্যাসিস্টও ৪। এছাড়া ফ্রান্সের ওসমান দেম্বেলে ৭ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম ৭ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন। নরওয়ের আরলিং হালান্ডও ৭ গোল করেছেন, তবে কোনো অ্যাসিস্ট না থাকায় তিনি তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন।

মেসির সামনে সবচেয়ে সহজ সমীকরণ হলো হ্যাটট্রিক করা। যদি তিনি ফাইনালে তিনটি গোল করেন, তাহলে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াবে ১১। সেক্ষেত্রে এমবাপের ১০ গোল ছাড়িয়ে সরাসরি গোল্ডেন বুট জিতে নেবেন তিনি। তখন আর অ্যাসিস্ট কিংবা মাঠে কাটানো সময়ের হিসাব বিবেচনায় আসবে না।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো দুই গোলের সঙ্গে অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করা। সে ক্ষেত্রে মেসির গোল হবে ১০ এবং অ্যাসিস্ট বেড়ে হবে ৫। এমবাপের গোলসংখ্যা সমান হলেও তাঁর অ্যাসিস্ট থাকবে ৪। ফলে টাইব্রেকারে এগিয়ে থেকে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট জিতবেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি।

তবে সবচেয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হবে যদি মেসি শুধু দুটি গোল করেন এবং কোনো অ্যাসিস্ট না করেন। তখন মেসি ও এমবাপে দুজনেরই থাকবে ১০ গোল এবং ৪টি করে অ্যাসিস্ট। এই অবস্থায় সিদ্ধান্ত যাবে মাঠে খেলার সময়ের ওপর।

বর্তমানে মেসি এমবাপের তুলনায় ৫২ মিনিট কম খেলেছেন। অর্থাৎ সমান গোল ও সমান অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল্ডেন বুট জিততে চাইলে তাঁকে এমনভাবে ম্যাচ শেষ করতে হবে, যাতে মোট খেলার সময় এমবাপের চেয়ে বেশি না হয়। হিসাব অনুযায়ী, ফাইনালে প্রায় ৫২ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে মাঠ ছাড়তে পারলে কম মিনিট খেলার সুবিধা ধরে রাখতে পারবেন তিনি। কিন্তু এর বেশি সময় মাঠে থাকলে মোট মিনিট এমবাপের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে। তখন সমান গোল ও সমান অ্যাসিস্ট থাকলেও গোল্ডেন বুট চলে যাবে এমবাপের হাতেই।

এই সমীকরণ ফাইনাল ম্যাচকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। একদিকে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখা এবং ইতিহাসে চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন। অন্যদিকে ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে লিওনেল মেসির সামনে।

বিশ্বকাপের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসি অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলগত রেকর্ড গড়েছেন। বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদও তিনি পেয়েছেন। তবে গোল্ডেন বুট এখনো তাঁর ট্রফি ক্যাবিনেটে নেই। ফলে এবারের ফাইনাল শুধু আরেকটি শিরোপা জয়ের লড়াই নয়, বরং ব্যক্তিগত অর্জনের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ।

অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপে ফাইনাল খেলবেন না, কারণ ফ্রান্স ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। তাই তাঁর ভাগ্য এখন নির্ভর করছে পুরোপুরি মেসির পারফরম্যান্সের ওপর। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক সমীকরণ মেলাতে না পারলে টানা আরেকটি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবেন ফরাসি এই তারকা।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি বিশ্বকাপ ফাইনালকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মর্যাদার লড়াইও সমানভাবে আলোচনায় এসেছে। ফলে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালে প্রতিটি গোল, প্রতিটি অ্যাসিস্ট এবং মেসির মাঠে কাটানো প্রতিটি মিনিটই হয়ে উঠতে পারে গোল্ডেন বুট নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত