প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের ‘আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের একজন শ্রমিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও সাত বাংলাদেশি শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আমুর অঞ্চলের প্রধান গ্যাস-রাসায়নিক প্রকল্প ‘এজিসিসি’-তে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রকল্পটি রাশিয়ার সিবুর ও চীনের সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে নির্মাণাধীন।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি শ্রমিকের নাম জাকির হোসেন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
এ ঘটনায় মো. আলাল হোসেন রাজু নামে আরও একজন বাংলাদেশি শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায়। অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় সেগুলোর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে নিখোঁজ রাজুও থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন দূতাবাস কর্মকর্তারা।
অগ্নিকাণ্ডে আহত সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আহতদের মস্কোর বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মস্কোস্থ দূতাবাস আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা, নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধান এবং দুর্ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
নিহত জাকির হোসেনের বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও দূতাবাস কাজ করছে। এ বিষয়ে ‘সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ এলএলসি’-এর সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রাশিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।
অমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস-রাসায়নিক প্রকল্পগুলোর একটি। নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক কাজ করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত ও উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।