প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত অবৈধ ঋণ কার্যক্রম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কতা জানায় বিএফআইইউ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ডিজিটাল মাধ্যমে সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ নিতে গিয়ে গ্রাহকেরা নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, অননুমোদিত এসব অ্যাপ ব্যবহারের সময় গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনের কন্টাক্ট লিস্ট, ছবি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত সুদ দাবি, টাকা আদায়ের নামে হয়রানি ও মানসিক চাপ প্রয়োগ এবং সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনত বৈধ নয়। এ ধরনের অননুমোদিত কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সাধারণ মানুষকে কোনো ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নেওয়ার আগে সতর্কভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে বিএফআইইউ। বিশেষ করে অনুমোদনহীন ঋণসেবা এবং প্রতারণা বা মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঋণের প্রয়োজন হলেও অননুমোদিত কোনো অ্যাপে ব্যক্তিগত তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ কিংবা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ঋণ দেওয়ার আগে কোনো প্ল্যাটফর্ম অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি বা প্রসেসিং ফি দাবি করলে তা পরিশোধ না করতেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিএফআইইউর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দ্রুত ও সহজে ঋণ পাওয়ার প্রলোভনে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যাটফর্মের বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, একবার সংবেদনশীল তথ্য অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে চলে গেলে তা বিভিন্নভাবে অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এ ধরনের অবৈধ ঋণ কার্যক্রম বা সন্দেহজনক অ্যাপের সন্ধান পেলে বিষয়টি বিএফআইইউকে জানানো যেতে পারে। এজন্য সংস্থাটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি লিখিতভাবেও অবহিত করার সুযোগ রয়েছে।
বিএফআইইউর এই সতর্কতা এমন সময়ে এলো, যখন ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত ঋণ দেওয়ার নামে বিভিন্ন অননুমোদিত প্ল্যাটফর্ম সাধারণ মানুষের কাছে সেবা দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। এসব প্ল্যাটফর্মে সহজ শর্ত, দ্রুত অনুমোদন কিংবা কম কাগজপত্রের মতো সুবিধার কথা তুলে ধরে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা হলেও এর আড়ালে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির ঝুঁকি থাকতে পারে।
তাই ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বৈধ ঋণসেবা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিএফআইইউ। একই সঙ্গে কোনো ডিজিটাল ঋণসেবা ব্যবহারের আগে প্রতিষ্ঠানটির আইনগত অনুমোদন এবং সেবার শর্ত যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।