বিশেষায়িত অঞ্চলের রপ্তানিকারকদের জন্য সহজ হলো বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ নীতিমালা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭৩ বার

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা বিশেষায়িত অঞ্চলের টাইপ বি ও টাইপ সি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য রপ্তানি আয় সংরক্ষণের নীতিকে আরও সহজ করেছে। রোববার (১০ আগস্ট) জারি করা এক সার্কুলারে জানানো হয়, বিশেষায়িত ও অ-বিশেষায়িত অঞ্চলের রপ্তানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ নীতিমালায় সমতা আনা হয়েছে, যাতে উভয় ক্ষেত্রেই একই ধরনের সুবিধা ভোগ করা সম্ভব হয়।

নতুন নীতিমালা অনুসারে, বিশেষায়িত অঞ্চলের রপ্তানিকারকদের রপ্তানি আয় ব্যাক-টু-ব্যাক আমদানি দায় পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রায় (এফসি) ব্যাক-টু-ব্যাক সেটেলমেন্ট পুলে রাখা যাবে। শুধু দায় পরিশোধের অংশই নয়, বরং স্থানীয় মূল্য সংযোজনের অংশও এই পুলে সংরক্ষণ করা যাবে, যা সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা সম্ভব হবে। এই সময়ের মধ্যে অব্যবহৃত অর্থ অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করে বিশেষায়িত অঞ্চলের রপ্তানিকারক বা তাদের সহযোগী কিংবা অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের আমদানি দায় পরিশোধ করা যাবে। তবে ৩০ দিনের পর যদি এই অর্থ অব্যবহৃত থাকে, সেটি নগদায়ন করে ফেলতে হবে।

নীতিমালা আরও স্পষ্ট করেছে যে, মোট রপ্তানি আয়ের কমপক্ষে ২০ শতাংশ (গার্মেন্টস খাতে ২৫ শতাংশ) স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরের পর অবশিষ্ট অর্থ রপ্তানিকারকের এফসি হিসাবে জমা রাখা যাবে। এছাড়া যারা ব্যাক-টু-ব্যাক পদ্ধতি ছাড়া রপ্তানি করেন, তারাও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য ৩০ দিন পর্যন্ত তাদের রপ্তানি আয় বৈদেশিক মুদ্রায় রাখতে পারবেন। একইভাবে, ৩০ দিনের মধ্যে অব্যবহৃত অর্থ স্থানান্তর বা নগদায়ন করে অবশিষ্ট অংশ এফসি হিসাবে সংরক্ষণ করার সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে ব্যবসায়ী মহল ইতিবাচকভাবে দেখছে। তাদের মতে, নতুন নীতিমালা শুধু বিশেষায়িত ও অ-বিশেষায়িত অঞ্চলের মধ্যে নীতি সমতা নিশ্চিত করবে না, বরং রপ্তানি কার্যক্রমে লেনদেন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করে তুলবে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই নীতি পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে। রপ্তানিকারকরা তাদের আয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিক নমনীয়তা পাবেন, যা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগে স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করবে। একইসাথে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত