প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের নবম বৃহত্তম ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসিকে ৩০.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)। চলতি মূলধন শক্তিশালী করা, অপরিহার্য আমদানিকৃত কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিশেষায়িত ওষুধ উৎপাদন বাড়াতে এই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় আইএফসি ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে আইএফসির সঙ্গে এই অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তার মতে, অর্থায়নের পাশাপাশি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে আইএফসির অভিজ্ঞতা পপুলারের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে, নতুন চিকিৎসা খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে এবং হরমোন ও বিশেষায়িত ওষুধের বাজারে অবস্থান সুদৃঢ় করতে সহায়তা করবে।
ঋণের অর্থের একটি বড় অংশ পপুলারের ডলারভিত্তিক চলতি মূলধনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে ওষুধ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্টস (এপিআই) বা সক্রিয় ওষুধের কাঁচামাল এবং অন্যান্য জরুরি উপকরণ আমদানিতে এই অর্থ কাজে লাগবে।
বাংলাদেশের ওষুধ উৎপাদন খাত আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ, আমদানি অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওঠানামা ওষুধ উৎপাদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইএফসির অর্থায়ন পপুলারকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আরও নির্ভরযোগ্যভাবে সংগ্রহ করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঋণের অর্থ ব্যবহার করে হরমোন বিভাগের সম্প্রসারণ এবং বিশেষায়িত ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস।
এই সম্প্রসারণের ফলে প্রায় ৩৩০টি উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে হরমোন ও বিশেষায়িত ওষুধ উৎপাদন বিভাগে নারী কর্মীর অংশ অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস ৮১৫টির বেশি পণ্য উৎপাদন করছে। এসব ওষুধ দেশের প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬০০টি ফার্মেসি ও ক্লিনিকে সরবরাহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত।
বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইকিউভিআইএর ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের বাজার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওষুধ বাজারে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের অবস্থান নবম।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত চার বছরে তারা ২৩.৫ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে এই প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ বলেও জানিয়েছে পপুলার।
প্রধান প্রধান চিকিৎসা খাতেই ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের শীর্ষ পাঁচ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় জায়গা করে নেওয়াকে এখন অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছে তারা।
আইএফসির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ম্যানুফ্যাকচারিং, অ্যাগ্রিবিজনেস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের আঞ্চলিক শিল্প পরিচালক কার্স্টেন মুলার বলেন, বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে জরুরি কাঁচামালের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, পপুলারের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষ কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করবে।
দীর্ঘমেয়াদি ডলার ঋণের মাধ্যমে আমদানিকৃত এপিআই ও অন্যান্য কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত ওষুধের বাজারে পপুলারের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
আইএফসির এই উদ্যোগ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের ‘ন্যাশনাল হেলথ কমপ্যাক্ট ২০২৫’ বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।