ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রভাব সীমিত থাকবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৩৭ বার

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ ডেস্ক

ভারত সরকার নতুন একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করলেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে তা তেমন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চারটি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শেখ বশিরউদ্দীন জানান, ভারত থেকে আসা এসব নিষেধাজ্ঞার পরও বাংলাদেশ তাদের রপ্তানি ক্ষেত্রে নতুন বিকল্প পথ ও বাজার অনুসন্ধান করছে। ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি প্রদান করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে কিছু বাধা থাকলেও ব্যবসায়িক পরিবেশ পুরোপুরি অস্থিতিশীল নয়। তাই রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।”

একই সময়ে, শেখ বশিরউদ্দীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে চলমান শুল্ক নির্ধারণ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক বর্তমানে ২০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১৫ শতাংশ করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে এবং এতে আশাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চেষ্টা চালানো হবে। দেশের অর্থনীতিতে কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হবে না।”

ভারতের নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিচালকের কার্যালয় (ডিজিএফটি) গত সোমবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে উল্লেখ করা হয়, ভারতের ব্যবসায়ীরা এখন থেকে বাংলাদেশ থেকে চার ধরনের পাটজাত পণ্য স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করতে পারবে না। এসব পণ্য আমদানির একমাত্র অনুমোদিত বন্দর হলো মুম্বাইয়ের নভসেবা বন্দর।

বাংলাদেশের পণ্য আমদানিতে ভারত বিভিন্ন সময়ে শুল্কবিহীন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। চলতি বছরের ১৭ মে স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাব, সুতা ও সুতার উপজাত, ফলমূল এবং কোমল পানীয় আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বসানো হয়। তার আগেও, ৯ এপ্রিল কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত।

উল্লেখযোগ্য যে, ভারতের এসব কঠোর পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশও প্রতিক্রিয়া স্বরূপ ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ করেছে। এর আগে বেনাপোল, ভোমরা, সোনা মসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির সুযোগ ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা একযোগে বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব মিটিয়ে একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার জন্য উদ্যোগ নেয়া জরুরি। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী হবে।

ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে সাম্প্রতিক সময়ের এই বাঁধাগুলো অতিক্রম করে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পীরা ভবিষ্যতে আরও অধিক সমন্বয় ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও নিরলস কাজ করছে।

সুতরাং, ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সাময়িক অস্বস্তি থাকলেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে তা গভীর সংকট সৃষ্টি করবে না বলে ধারনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা এই ধরণের প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের জন্য নতুন পথ অনুসন্ধান অব্যাহত রাখছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত